স্টাফ রিপোর্টার
কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতায় হুমকির মুখে পড়েছে বিপুলসংখ্যক কৃষি জমি। সরকারি খালসহ কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে গভীর করে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি কুচক্রী মহল। এ নিয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে এখনো প্রতিকার মেলেনি তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে স্থানীয় ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে তেতৈয়া, জলা তেতৈয়া, এলাকায় ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যুরা। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের সিংড্ডা, বরুচর, লতিফপুর ও নাহার এলাকাসহ ১০টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।
সাচার ইউনিয়নের বজরীখোলা, রাগদৈল, বায়েকের মোড়, নয়াকান্দি এলাকাসহ ওই ইউনিয়নে প্রায় ১৫টির অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যু চক্রটি। পাথৈর ইউনিয়নের হাটমোড়া, বেরকোটা, পাথৈর এলাকায় ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন আরেকটি চক্র।
বিতারা ইউনিয়নের দূর্গাপুর, বাইছারা,ঘুগড়া বিল, বাতাপুকুড়িয়া, শিলাস্থান, টেলি, নিন্দিপুর, বুধুন্ডা ও মাঝিগাছাসহ ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ১২টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে বালু উত্তোলন করে আসছে ভূমিদস্যুরা।
এছাড়াও পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দোয়াটি, আইনপুর ও সফিবাদ, ভূঁইয়ারা, বক্সগঞ্জ, বাইচায়া, পালাখালা ও আশারকোটাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।
কড়ইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া নাছিরপুর, বাসাবাড়িয়া ও হায়াতপুর, সাহেদাপুর অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন কয়েকটি চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে ৫০টি অধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রশাসনিকভাবে নিষেধ থাকলেও আইন অমান্য করে তারা সর্বত্র এই কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দিলে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় দেখা যায় কিছু নামধারী সাংবাদিক, পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তিদেরকে ম্যানেজ করে অবৈধ ড্রেজার মেশিনগুলো চালাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের এ কাজে বাধা দিলেও তারা উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে আসছে। তারা কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, এ ধরনের কাজে সম্পৃক্তদের ছাড় দেয়া হবে না। দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


