চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার

এক সন্তানকে হারিয়েছেন মেঘনার পানিতে। আরেক সন্তানও নেই। কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ গেছে ইয়াছিনের। এরই মধ্যে ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী স্বামী। একের পর এক আঘাতে বিপর্যস্ত চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডের বাসিন্দা আম্বিয়া বেগমের সংসার।শুধু ইয়াছিনের পরিবার নয়, চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ হয়ে মারামারি, হামলা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে কিশোর অপরাধ এখন সামাজিক উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছেন।ইয়াছিনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবারের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত হয় আল আমিন নামে এক কিশোর। সন্তান হারানোর সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি তার বাবা-মায়ের। বিচারের আশায় দিন গুনছে পরিবারটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধভাবে কিশোরদের আড্ডা ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা নতুন নয়। ছোটখাটো বিরোধ থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া, পথচারীকে হয়রানি কিংবা এলাকায় ভয়ভীতি তৈরির মতো অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব বিরোধই পরে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। তবে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ। চাঁদপুর জেলা পুলিশের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আটক কিশোরদের কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান কিংবা গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়। পরিবারে সন্তানদের প্রতি নজরদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিকভাবে কিশোরদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে কিশোরদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার আতঙ্ক—সব মিলিয়ে চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং এখন বড় সামাজিক উদ্বেগ। পুলিশের কঠোর অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এই দৌরাত্ম্য দ্রুত কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।