স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে চাঁদপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, পরিবেশবান্ধব থিমের সঙ্গে মিল রেখে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের সবার সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। ভক্তিমূলক গান বাজানোর পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং এর পাসওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো পূজামণ্ডপে জুয়া, হাউজি কিংবা অননুমোদিত মেলার আয়োজন করা যাবে না। অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। হাজীগঞ্জের মদের দোকান বন্ধ রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখার কথা জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, রাতে কোনো মন্দির বা পূজামণ্ডপ অরক্ষিত রাখা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পূজা উদযাপন কমিটি, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, চাঁদপুর পৌর এলাকার সড়কের গর্তগুলো রাতেই ভরাটের কাজ চলছে। প্রতিমা বিসর্জনের ঘাটও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সংস্কার করে দেবে। হাজীগঞ্জ উপজেলা সদরে সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় পূজার সময় দর্শনার্থীদের ভিড়ের কথা বিবেচনা করে কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানানো হয়। এ জন্য জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল ও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের কথাও জানানো হয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় বলা হয়, পূজার অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে পূজার অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের লোডশেডিং না দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫২৬ জন আনসার সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে ৮ জন এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ৬ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধির বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিকী, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেলিমুল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল সাহা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, মুনির চৌধুরী ও দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুর ই আজম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মো. মাসুদুল ইসলাম বুরবুর, এনসিপির মাহবুব আলম, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) নওশেদ আহমেদ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার, কচুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ফণী ভূষণ মজুমদার তাফু, হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমীর দত্ত, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল সাহা এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুজন সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা।


