প্রেস বিজ্ঞপ্তি
হাজীগঞ্জে শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী। ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ উন্নয়ন, পাঁচটি মার্কেট নির্মাণ, চারটি মাদ্রাসা পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ‘হাজীগঞ্জের উদ্যোক্তা তৈরির কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকে।
১৯৮৫ সালে পিতা আলহাজ মো. মনিরুজ্জামান পাটওয়ারীর মৃত্যুর পর ওয়াকফ এস্টেটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে এস্টেটের সম্পদ রক্ষা, স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মসজিদ সংস্কার, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং পরিচালনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক সেবার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হয়েছে।
হাজীগঞ্জ দারুল উলুম আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার উন্নয়ন ও কামিল পর্যায়ে উন্নীতকরণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়া ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু করে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে এটি হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে উন্নীত হয়।
কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠদান চালুর ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরস্কার অর্জন করে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর নেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, মার্কেটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুই থেকে তিনজন করে কর্মচারী কাজ করলে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের পরিবারও এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর এসব উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, শুধু প্রতিষ্ঠান নির্মাণ নয়, মানুষের ব্যবসা শুরু, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাও তাঁর উদ্যোগের অন্যতম দিক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা বিস্তার, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে তাঁর উদ্যোগগুলো হাজীগঞ্জের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব কমানোর সুযোগ রয়েছে।


