স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর কালেক্টরেট কর্মকর্তা-কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের আর্থিক হিসাব, সদস্যদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং মার্কেটের আয়-ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এসেছে। সমিতির আর্থিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা নাজির মুজিবুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
১২ অক্টোবর দৈনিক শপথ পত্রিকায় ‘লভ্যাংশ নেই, আমানতও অনিশ্চিত, ক্ষুব্ধ সদস্যরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে সমিতির ব্যাংকে জমা অর্থ, অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পাওনা, মার্কেটের দোকানভাড়া ও সেলামি আদায় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসে।
সমিতির ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, এবি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে দুটি এফডিআরে মোট ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জমা ছিল। অথচ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ২০২১ সালে তাদের জমাকৃত অর্থ ও লভ্যাংশ ফেরত চেয়ে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সমিতির আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পাশের ২০ দোকানের মার্কেটের ভাড়া, দোকান বরাদ্দের সময় নেওয়া সেলামি এবং নির্মাণব্যয়ের বিপরীতে অর্থ সমন্বয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়েও অস্পষ্টতার কথা প্রতিবেদনে উঠে আসে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাজির মুজিবুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন, সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাবের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। মার্কেটের আয়, দোকানভাড়া ও নির্মাণব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এর আগে বলেছিলেন, এই বিষয়টি আমি কিছুদিন আগে জেনেছি। আমি তাদের কাগজপত্র ও ফাইল আমাকে দেওয়ার জন্য বলেছি। আয়-ব্যয়ের বিষয়টি তাদেরই। আমি এখানে পদাধিকারবলে সভাপতি হয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।
সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সমিতির আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন সদস্যদের জমাকৃত অর্থের বর্তমান অবস্থা, ব্যাংকে থাকা অর্থের হালনাগাদ হিসাব, মার্কেটের আয়-ব্যয় এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমিতির সদস্যদের প্রত্যাশা, ব্যাংক হিসাব, দোকানভিত্তিক ভাড়া, সেলামি আদায় ও নির্মাণ ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব যাচাই করে প্রকাশ করা হবে এবং তাদের ন্যায্য পাওনা নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


