৯ বছরেও দোকান বুঝে পাননি বরাদ্দপ্রাপ্তরা

ইসহাক ইসলাম জায়ান

হাজীগঞ্জে জেলা পরিষদের সুপার মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘ নয় বছরেও দখল বুঝে পাননি ব্যবসায়ীরা। ২৭১টি দোকানের বিপরীতে বরাদ্দ বাবদ জেলা পরিষদে জমা পড়েছে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া মার্কেটটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের পরও ছয় বছর পেরিয়ে শেষ হয়নি। এতে আটকে আছে ব্যবসায়ীদের বিপুল বিনিয়োগ। বাড়ছে আর্থিক চাপ, দীর্ঘ হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

ব্যবসা শুরুর স্বপ্ন নিয়ে কেউ সারা জীবনের সঞ্চয়, আবার কেউ ধারদেনা করে পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন এই মার্কেটে। নির্ধারিত সময়ে দোকান বুঝে না পাওয়ায় এখন তাঁদের সেই বিনিয়োগ কার্যত আটকে আছে। দীর্ঘদিনেও মার্কেট চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী আক্তার সর্দার ও নাহিদ হোসেনসহ অন্যরা জানান, দোকান বুঝে পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন তারা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। এতে একদিকে বিনিয়োগের অর্থ আটকে আছে, অন্যদিকে বাড়ছে আর্থিক সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের মধ্যে মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট মার্কেটটিতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে মার্কেটের সামনের অংশে বসেছেন হকাররা। তবে মার্কেট চালু হওয়ার আগে তারা সরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটটির নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুলে নিয়েছে ২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে সংশোধিত প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার জানান, মার্কেটটির কিছু সংস্কারকাজ বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলেই বরাদ্দপ্রাপ্তদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে মার্কেটের ২৭১টি দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দোকান বুঝে না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিপুল অর্থ জমা নেওয়ার পরও কেন নির্ধারিত সময়ে মার্কেটটি চালু করা গেল না, আর কবে তাঁরা দোকানের দখল পাবেন এখন এসব প্রশ্নের জবাব চান বরাদ্দপ্রাপ্তরা।