স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জে আইইউজিআইপি-এর আওতাধীন সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত বালুর পরিবর্তে গজারিয়া চর থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলন করা কাদা মাটি দিয়ে সড়কের বক্স ভরাট করা হচ্ছে। এদিকে চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবদল নেতা আমিন মিজি মুঠোফোনে চর থেকে মাটি উত্তোলনের চুক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রতি ঘনফুট বালু ১৫ টাকা দরে সাব-ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
ঘটনাটি রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কেরোয়া গ্রামে ঘটেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কেরোয়া গ্রামের গজারিয়া চরে সরকার ঘোষিত অবৈধ মিনি ড্রেজার স্থাপন করা হয় শনিবার। তার সঙ্গে প্রায় ৬ শত ফিট দৈর্ঘ্য পাইপ সংযোগ দেয়া হয়। রোববার দুপুরে স্টার্ট হয় ড্রেজার। রাস্তা নির্মাণের জন্য আইইউজিআইপি –এর নির্মাণাধীন নতুন রাস্তার বক্স কাটিং করা হয়। চরে স্থাপন করা ওই ড্রেজার দ্বারা কথিত বালু (মাটি) তুলে বক্স ভরাট কাজ শুরু হয়। এতে, চর থেকে ওঠা পানিতে রাস্তায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বসবাস করেন হাজারও মানুষ। চর থেকে মাটি-পানি দিয়ে রাস্তা সয়লাব এবং চলাচল বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির মুঠোফোনে জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন রাস্তাটি আইইউজিআইপি’র। কাজটি পৌরসভার সঙ্গে সম্পর্কিত। কাজ দেখাশোনার জন্য আইইউজিআইপি’র দুইজন প্রকৌশলী, একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত আছেন। আমাদের পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে আমিসহ আমাদের সাব এসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলীও দেখা-শোনার দায়িত্বে আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রোববার আমাদের কোনো প্রতিনিধি রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেছেন, রাস্তায় বালু ফেলবে এ খবর আমাদের জানানো হয়নি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, চর থেকে ড্রেজার দ্বারা বালু বা মাটি রাস্তার কাজে লাগানো বেআইনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চর উন্নয়ন কমিটির অনুমতি ছাড়া এখানে ড্রেজার স্থাপন ও বালু-মাটি উত্তোলন করতে পারে না। তাদের যোগসাজস থাকতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবদল নেতা আমিন মিজি মুঠো ফোনে জানান, চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে বিএনপির উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আজাদ পাটওয়ারী, চর থেকে ড্রেজার দ্বারা বালু নেয়ার জন্য রাস্তার সাবঠিকাদার স্থানীয় বাস ট্যান্ডের মো. শাহাজাহানের সঙ্গে প্রতি ফিট বালু ১৫ টাকা দরে চুক্তি হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে মুঠোফোনে কল দিলে বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান দুলাল কল রিসিভ করেননি।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, রাস্তার টেন্ডার নিয়েছে এসএস এন্টারপ্রাইজের রাকিবুল হাসান দীপু। কিন্তু, সাব ঠিকা নিয়ে কাজ করছেন মো. শাহজাহান।
ঠিকাদার রাকিবুল হাসান দীপু মুঠোফোনে দাবী করেছেন, শাহজাহান কে, আমি চিনি না। আমার কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই কাজ করে। ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলা হলে আইইউজিআইপি ও পৌরসভার ইঞ্জিনিয়াররা সেটা দেখবেন।
জানতে চাইলে এসি (ল্যান্ড) মো. আনিসুর রহমান বলেছেন, সরজমিন উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে সকল প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেছেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


