স্টাফ রিপোর্টার, মতলব উত্তর :
মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কামালদী মাথাভাঙ্গা বেপারী বাড়িতে বসতঘরে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাত ২টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতের হামলায় ওই ঘরের জাফর বেপারী গুরুতর আহত হন। পরে আহত মোঃ জাফর বেপারী মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব উত্তর থানার ওসি মোঃ আলমগীর হোসেন রনি।
জানা গেছে, মোহনপুর ইউনিয়নের কামালদী মাথাভাঙ্গা গ্রামের বেপারী বাড়িতে বসবাস করেন জাফর বেপারী (৭০) ও তার স্ত্রী। ডাকাতরা ছয় জন ছিলো। এদের মধ্যে ২জন স্টিলের শোকেস এর তালা ভেঙ্গে ডয়ারে থাকা ৮ আনি করে ২ জোড়া স্বর্ণের দুল (কানের জিনিস), ১ ভরি ওজনের একটা চেইন। মোট ২ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এই ৫০ হাজার টাকা গরু কিনার জন্য মেয়ের জামাই দিয়েছিলো বলে জানান বৃদ্ধ জাফর বেপারী।
আহত জাফর বেপারী জানান, প্রতিদিনের মত রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ২টা ৩০ মিনিটে একদল ডাকাত বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাদের উপর আক্রমণ চালায় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্ত্রীর গলায় ধাঁড়ালো অস্ত্র ধরেন ও তার হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। ডাক-চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে মুখের ভিতর গামছা ঢুকানো হয়। পরে ডাকাতদের হাতে থাকা চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে পিটানো হয়। বৃদ্ধা স্বামীকে কেন ডাকাতরা এভাবে মারছে জানতে চাইলে স্ত্রী আরজা বেগমকেও মারধর করে আর জানতে চায় ঘরের কোথায় টাকা-পয়সা আছে। না বললে তার স্বামীকে মেরে ফেলা হবে। ঐদিনের ডাকাতির ঘটনা বলতে গিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বৃদ্ধা জাফর বেপারী।
মতলব উত্তর থানার ওসি মোঃ আলমগীর হোসেন রনি জানান, ডাকাতির ঘটনা শুনে সরেজমিনে গিয়েছিলাম। আহত জাফর আলী বেপারীর সাথে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি কি হয়েছিলো ঐদিন। তারা ডাকাতির ঘটনা জানিয়েছেন। এখন তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


