মো. মাসুদ রানা:
চাঁদপুরের কচুয়ায় দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প। এতে বাঁশ শিল্পের কারিগররা ভালো নেই। এক সময়ে এ শিল্পের কদর থাকলে আধুনিকতার ছোয়ায় বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে এ উপজেলার ১৫টি স্থানে এ শিল্পটি টিকে আছে। বাপ-দাদার আমলে এ শিল্পটি ছিল ঐতিহ্য। বর্তমানে কাঁচামালের দাম ও শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরির কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প।
উপজেলার পালাখাল, কচুয়া, চৌমুহনী, চাংপুর, সাচার সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫টি এলাকায় বাঁশ শিল্পের কারিগররা কাজ করছেন। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তারা এখনো তৈরি করছেন বাঁশের মুলির বেড়া, সিলিং সহ নানা পণ্য। কিন্তু দিন দিন বাঁশ তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা। জীবন জীবিকার তাগিদে তবুও এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছে কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী ও পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ওবায়েদুল সিলিং হাউজে বাঁশের পণ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় নানা রকমের বাঁশের তৈরি পণ্য। এ সিলিং হাউজে প্রায় ১৫জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শ্রমিকরা এ সিলিং হাউজে কাজ করে কেউ প্রতিদিন, মাসিক হারে মজুরি নেন। বর্তমানে বাঁশের পন্য আমদানি করতে অনেক খরচ হয়। বাঁশের পন্যের অধিক মূল্য হওয়ায় মালিকরা পড়ছেন বিপাকে। দেশের পরিস্থিতি শিথিল হলে হয়তো পন্যের দাম হ্রাস পাবে।
পালাখাল ওবায়েদুল সিলিং হাউজের পরিচালক ওবায়েদুল জানান, হাতে গোনা বতর্মানে কচুয়ায় কয়েকটি এলাকায় এ কাজে নিয়োজিত। একটি বাঁশ থেকে বেড়া,সিলিং সহ অন্যান্য পন্য তৈরি হয়। তবে বর্তমানে আগের মত আর বেশি লাভ হয় না। শেকড় আঁকড়ে ধরে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বলে জানান তিনি।
শ্রমিকরা জানান, আমরা এ সিলিং হাউজে কাজ করে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করছি। অনেক বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছি। প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন তা হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, বাঁশ শিল্পের কারিগরদের এখন তেমন দেখা যায় না। তাছাড়া বাঁশ ঝাঁড় গড়ে উঠার জায়গা দিনদিন কমে যাচ্ছে। কৃষকরা অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।
বাঁশ শিল্পকে ঠিকিয়ে রাখতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে প্রনোদনার মাধ্যমে কৃষকদেরকে প্রকল্প দেয়া হবে। এদিকে বাঁশ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার বলে জানান তিনি।


