স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়নের বেপারী বাড়ি জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে খুৎবার বিষয়বস্তু নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে বিতর্ক ও সাময়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক মুসল্লির অভিযোগ, মসজিদের ইমাম গত কয়েকটি জুমার খুতবায় ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়েও বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে আগে থেকেই কিছু মুসল্লির মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের আগে খুতবার সময় ইমাম রাজনৈতিক বিষয়, সুদ, ঘুষ ও এনজিওর কিস্তি ব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য শুরু করলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিনসহ কয়েকজন মুসল্লি আপত্তি জানান। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি স্বপন বেপারী বলেন, “হুজুর প্রায়ই খুতবায় রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন।”
মুসল্লি দাদন মিজিসহ কয়েকজন জানান, জুমার আগে রাজনৈতিক প্রসঙ্গসহ সুদ ও কিস্তি বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে কয়েকজন মুসল্লি ধর্মীয় খুৎবাকে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রাখার অনুরোধ জানান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে কয়েকজন মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির সদস্যের সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বেপারী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি জুমার আগে সুদ, ঘুষ ও বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছিলাম। তখন কয়েকজন আমাকে বাধা দেন। এতে সাময়িক হট্টগোলের সৃষ্টি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরে কে বা কারা ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আমি কখনোই এমন পরিস্থিতি চাইনি। এখন কেউ কেউ দাবি করছেন, আমি নাকি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে বক্তব্য দিই, যা আমি অস্বীকার করছি।”
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমাদের আপত্তি ছিল মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে। আমরা চাই ধর্মীয় খুতবা ধর্মীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকুক। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার ব্যক্তিগত মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. জাকির হোসেন বেপারী বলেন, “ঘটনার সময় আমি মসজিদে উপস্থিত ছিলাম না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে বিষয়টি জানতে পারি। মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে রাজনৈতিক বিতর্ক না হওয়াই উচিত। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে খুতবায় অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাহলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিবেশ শান্ত ও বিতর্কমুক্ত রাখার পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


