আগামীকাল ষষ্ঠী

সাগর আচার্য্য:

শারদীয় দুর্গোৎসবের আগামীকাল ষষ্ঠী। দেবী দুর্গা দোলায় চড়ে আসবেন ভক্তদের কাছে। সায়ংকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হবেন তিনি। এর আগে সম্পন্ন হবে দেবীর বোধন। আর এর সঙ্গেই শুরু হবে বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

হিন্দু পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল, কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। সেই থেকে অকালবোধন হওয়া সত্ত্বেও শরৎকালেই দুর্গাপূজা প্রচলন হয়ে যায়। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ  করেছেন ‘খের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা’। মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দূর্গা পূজোর আয়োজন করছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। এবছর জেলায় ২শ’ ২০টি পূজো মন্ডপে উদযাপন করা হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজো মন্ডপ গুলোর আলোকসজ্জ্বা ও সৌন্দর্য বর্ধনসহ নিরাপত্তাজনিত কাজকর্মেও সনাতনীদের ব্যস্ততা সকলের নজর কেড়েছে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলায় সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতারসহিত প্রস্তত রয়েছে প্রশাসন।

পূজোর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের শঙ্কিত হবার কারন নেই। ইতিমধ্যেই সনাতন ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে ২শ’ ২০টি পূজো মন্ডপকে ঘিরে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। আশা করছি সনাতন ধর্মালম্বীরা দারুনভাবেই এই শারদীয়া দূর্গোৎসব উদযাপন করতে পারবে।