এডক নিয়োগে চাকরি হারানোদের নিয়োগ হলো হাজিরায়

বিল্লাল ঢালী:

চাঁদপুর পৌরসভায় এডক ভিত্তিক নিয়োগে চাকরি হারানো কর্মচারীগনের অধিকাংশ নিয়োগ পেলেন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অফিস আদেশের মাধ্যমে এডক নিয়োগ বাতিল করেন পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠির আলোকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসব নিয়োগ বাতিল করেন তিনি । অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয় ৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই আদেশ কার্যকর হবে। এডক ভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হলেও এডক ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশ বর্তমানে কর্মরত আছেন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগে। একইদিন অর্থাৎ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আরেকটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের হাজিরা ভিত্তিক নিয়োগদেন পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া। ঐ অফিস আদেশে তিনি উল্লেখ করেন চাঁদপুর পৌরসভা একটি ক শ্রেণীর পৌরসভা। কাজের পরিধি ব্যাপক, সীমানা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী যে জনবল রয়েছে, তা দিয়ে পৌরসভার দৈনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই পৌরসভার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পত্রের আলোকে দক্ষ কর্মীদের দৈনিক ৫শ ৫০ টাকা এবং অদক্ষ কর্মীদের ৫শ টাকা হারে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নিয়োগ প্রাপ্তদের তালিকা থেকে জানা যায়, যারা এডকে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিলেন তাদের অধিকাংশই বর্তমানে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক হিসেবে।

চাঁদপুর পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এডক ভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের পূর্বে মাস্টাররোল ও এডক ভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ১শ জনের বেশি। অতিরিক্ত কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা, বয়স, কর্মদক্ষতা, কর্মে গাফিলতি ইত্যাদি বিবেচনা করে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগে কিছু সংখ্যক কর্মচারীকে বাদ দিয়েছে পৌরসভা।

পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক দক্ষ (৫শ ৫০ টাকা দৈনিক হাজিরায়) কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা তারা হলেন, মোঃ জাকির আহম্মদ, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও তালাল ইবনে তালহা (কর আদায় শাখায়)। মোহাম্মদ রাসেল গাজী, মোহাম্মদ নূরে আলম মিয়া, মোঃ মজিদ খান, নাছির গাজী, রাকিব ও সালাউদ্দিন খান (প্রকৌশল শাখা)। মাজেদা আক্তার, উম্মে সালমা, সাহিদা পারভিন, আমির হোসেন, মমতাজ বেগম, রুপালি আক্তার, মরিয়ম আক্তার -১, মরিয়ম আক্তার-২ ও মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (শিক্ষা শাখা)। মোঃ মইনুদ্দিন ও মোঃ হাসান শরীফ (লাইসেন্স শাখা)। মোহাম্মদ রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ (পরিচ্ছন্ন শাখা)। মোহাম্মদ জাহিদ বকাউল (হিসাব শাখা)। মোহাম্মদ আজাদ পাটোয়ারী, মোহাম্মদ আবুল কালাম গাজী মোহাম্মদ নাসির আখন্দ ও মোহাম্মদ রাজীব গাজী (সাধারণ শাখা)। মোঃ ইসমাইল হোসেন গাজী, মোহাম্মদ শাহিন হোসেন মাঝি, মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ মোবারক দেওয়ার (বিদ্যুৎ শাখা)।

অদক্ষ (৫শ টাকা দৈনিক হাজিরায়) কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন যারা তারা হলেন, মোঃ আ: মতিন বেপারী, মোঃ কালু হাওলাদার, মোহাম্মদ বাবুল গাজী, মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ সুমন ও মোঃ মালেক ব্যাপারী (সাধারণ শাখা)। মামা জাকির হোসেন ঢালী, মোঃ কোভিদ হোসেন, মোঃ খালেক মাঝি, ও মোঃ জাকির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন ভুইয়া, মোহাম্মদ রবিউল গাজী ও মোঃ সাব্বির গাজী(প্রকৌশল শাখা)। মোহাম্মদ বদিউজ্জামান, মোঃ জাকির হোসেন মিজি, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, মোঃ রাসেল মিজি, চিত্রা ভৌমিক, মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, মোহাম্মদ শাজাহান মিয়াজী , আবু তাহের খলিফা ও মোঃ অলিউল্লা বেপারী (স্বাস্থ্য শাখা)। মোহাম্মদ আসলাম হোসেন (কর আদায় শাখা)। মোঃ আব্দুল্লাহ (অ্যাসেসমেন্ট শাখা)। মোঃ শাহাদাত হোসেন মৃধা, মোঃ মোরশেদ আখন্দ ও মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বরকন্দাজ (পরিচ্ছন্ন শাখা)। মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন (বিদ্যুৎ শাখা)। মোঃ মনির হোসেন গাজী (লাইসেন্স শাখা)

এডক ভিত্তিক নিয়োগে চাকরি হারানো কর্মচারীদের পুনরায় দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা একটি কয় শ্রেণীর পৌরসভা। পৌরসভায় আগে থেকেই ৩৫ টি পদ শূন্য রয়েছে। মন্ত্রণালয় চিঠি দেওয়া হয়েছে শূন্য পদ পূরণের জন্য। জনবল সংকট থাকায় পৌরবাসীর স্বার্থে অভিজ্ঞ কর্মঠ ব্যক্তিদের দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে আমরা যাচাই করছি এর মধ্যেও কারা ভালো ভাবে কাজ করে । যারা ভালো ভাবে কাজ করবে না তাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে। যারা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগ পেলেন তাদের প্রতি আমাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেলে শূন্য পদ পূরণ হলে এই কর্মচারী সংখ্যা আরো কমে আসবে।