গরমেও তালের শাঁসের প্রচুর চাহিদা

স্টাফ রির্পেোটার:

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই তীব্র গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মৌসুমি ফল তালের শাঁসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। একটু স্বস্তির খোঁজে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন ভিড় করছেন তালের শাঁসের দোকানগুলোতে। দাম কিছুটা বেশি হলেও পুষ্টিকর এই ফলটি কিনতে ক্রেতারা দ্বিধা করছেন না। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর এখন সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে উপজেলার ছেংগারচর বাজার, সুজাতপুর বাজার ও নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে। বাজারে পাইকারি ও খুচরা—উভয় ধরনের ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

সুজাতপুর বাজারের তালের শাঁস বিক্রেতা কবির মিয়া জানান, তিনি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করেন। তালের সংখ্যা ও আকারভেদে একটি গাছের ফল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনতে হয়। এরপর বাজারে এনে প্রতি পিস শাঁস আকারভেদে ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে তাঁর ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “এই গরমের মৌসুমে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক মৌসুমি শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। লাভও ভালো হচ্ছে। অনেক ক্রেতা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও শাঁস কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

বাজারের শাঁস কিনতে আসা ক্রেতা আরিফ মিয়া বলেন, “তালের শাঁস যেমন মৌসুমি ফল, তেমনই এটি বেশ সুস্বাদু ও উপকারী। তাই প্রতি বছরই এই সময়ে এটি খাওয়ার চেষ্টা করি। আজ মেয়ের জন্য তালের শাঁস কিনতে এসেছি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিকভাবে শীতল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় গ্রীষ্মের তীব্র গরমে তালের শাঁস মানুষের কাছে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। আর এই কারণেই মতলব উত্তরের বিভিন্ন হাট-বাজারে দিন দিন এর চাহিদার পাশাপাশি বেচাকেনাও বাড়ছে।