চরভাঙ্গায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভাঙ্গা গ্রামে টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মাজহারুল ইসলাম মেজর। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে চরভাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, বসতবাড়ি ও নিচু এলাকায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ও গৃহস্থালির কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করে মাজহারুল ইসলাম মেজর নিজস্ব অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ চিহ্নিত করে যেখানে পানি চলাচলের পথ বন্ধ ছিল, সেখানে পাইপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চরভাঙ্গা গ্রামের বারেক হাওলাদার ও আব্বাস পাটওয়ারীর বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপ স্থাপন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানটি জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ ছিল। নতুন পাইপ বসানোর ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত সরে যেতে শুরু করেছে এবং এলাকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাইপ স্থাপনের পর পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মাজহারুল ইসলাম মেজর দীর্ঘদিন ধরে চরভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রচারের চেয়ে মানুষের উপকার করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

মাজহারুল ইসলাম মেজর বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সাময়িক ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পানি চলাচলের পথ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। ব্যক্তি উদ্যোগের সঙ্গে সরকারি পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এভাবে জনকল্যাণে এগিয়ে এলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।