স্টাফ রিপোর্টার :
টি-টুয়েন্টি ওয়ার্ডকাপে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এ ম্যাচে বাংলাদেশ হারের লজ্জা পেলো। নাভিন উল হাকের স্লোয়ার ডেলিভারি পিচে পড়ার পর নিচু হয়ে গেল বেশ। অনসাইডে খেলার চেষ্টায় তাসকিন আহমেদের ব্যাটে লেগে বল আঘাত করল স্টাম্পে। নবম উইকেট হারাল বাংলাদেশ। এরপর খেলা শুরু হতে কিছুটা সময় বিলম্ব হয়। এরপরের বলেই এলবিডব্লিউএর ফাঁদে পড়েন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশ হারে ৮ রানে। ওদিকে আফগানরা বিশ্বরেকর্ড করে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
১৭.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১০৫ রান। আফগানিস্তানের প্রয়োজন ১ উইকেট। বাংলাদেশকে করতে হবে ৮ বলে ৯ রান।
শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ক্রিজে। ৪৯ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত লিটন কুমার দাস।
বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি করলেন লিটন কুমার দাস। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ক্যারিয়ারের একাদশ পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ইনিংস পর তার পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস এটি।
১৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৯৮ রান। নুর আহমেদের করা ওই ওভারের শেষ বলে আম্পায়ার্স কলের সৌজন্যে এলবিডব্লিউর হাত থেকে বেঁচে যান লিটন।
জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে করতে হবে ১৬ রান।
পঞ্চদশ ওভারে আক্রমনে এসেই সাফল্য পেলেন গুলবাদিন নাইব। শর্ট ডেলিভারিতে শর্ট কভারে ক্যাচ তুলে দিলেন তানজিম হাসান।
১৪.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯২ রান। ২৮ বলে প্রয়োজন আরও ২২ রান। বাকি ২ উইকেট। ৩৮ বলে ৪৫ রান নিয়ে অপরাজিত লিটন কুমার দাস। নতুন ব্যাটসম্যান তাসকিন আহমেদ। সেরা চারের টিকেট পেতে ১২.১ ওভারের মধ্যে রান করতে হতো বাংলাদেশের। কিন্তু ১৩ ওভারেও পারেনি তারা। তাই আর কোনো সুযোগ বাকি নেই।
তবে বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারলে সেমি-ফাইনালে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। অন্যথায় আফগানিস্তান পাবে সেরা চারের টিকেট।
১৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৮৮ রান। জয়ের জন্য ৩৬ বলে প্রয়োজন ২৬ রান।
তৃতীয় দফার বৃষ্টিতে কাটা গেল ১ ওভার। একইসঙ্গে কমল ২ রান। ১৯ ওভারে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য ১১৪ রান।
১২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৮২ রান। ৪২ বলে তাদের প্রয়োজন আরও ৩২ রান।
আরও একবার নামল বৃষ্টি। দ্বাদশ ওভারে বন্ধ হয়ে গেল খেলা। ১১.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৮১ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ২ রানে পিছিয়ে তারা
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই রানের জন্য ধুঁকছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার সংগ্রামী ব্যাটিংয়ের ইতি টেনে দিলেন রাশিদ খান। কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরলেন ৯ বলে ৬ রান করা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
মাঠের আম্পায়ার অবশ্য শুরুতে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে মাহমুদউল্লাহর বিদায় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
পরের বলে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হন রিশাদ হোসেন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে পরের ওভার শুরু করবেন রাশিদ।
১১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৮০ রান। সেমি-ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন কার্যত শেষ। ম্যাচ জিততে ৩ উইকেটে করতে হবে আরও ৩৬ রান।
২৮ বলে ৩৬ রানে খেলছেন লিটন কুমার দাস। নতুন ব্যাটসম্যান তানজিম হাসান।
জীবন পেয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়। রাশিদ খানের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়লেন তরুণ ব্যাটসম্যান। ২ চারে তিনি করলেন ৯ বলে ১৪ রান।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রাশিদের ১৫০তম উইকেট এটি। এর আগে দেড়শ উইকেট নেওয়া একমাত্র বোলার নিউ জিল্যান্ডের টিম সাউদি।
৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৩ রান। সেমিতে যেতে ১৯ বলে করতে হবে আরও ৪৩ রান। আর জয়ের জন্য আছে ৬৬ বল।
লিটন কুমার দাস ২৫ বলে ৩৪ ও মাহমুদউল্লাহ ১ বলে ১ রানে খেলছেন
মোহাম্মদ নাবির বলে সুইপ খেলার চেষ্টায় তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল উঠে গেল আকাশে। শর্ট ফাইন লেগ থেকে অনেকটা দৌড়ে বলের কাছাকাছি গেলেন ফাজালহাক ফারুকি। কিন্তু হাতের জমাতে পারলেন না। ২ রানে জীবন পেলেন হৃদয়।
পরের দুই বলে বাউন্ডারি মেরে আফগানিস্তানের হতাশা আরও বাড়ান হৃদয়।
৮ ওভারে বাংলদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৬৩ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৫৩ রান। হৃদয় ৮ বলে ১৪ ও লিটন কুমার দাস ২১ বলে ২৬ রানে খেলছেন।
আক্রমণে এসেই সাফল্য পেলেন রাশিদ খান। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে তিনি বোল্ড করলেন সৌম্য সরকারকে। ১০ রান করতে ১০ বল খেলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন এই ম্যাচ দিয়েই একাদশে ফেরা সৌম্য।
৬.৩ ওভারে বাংলাদেশে সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৮ রান। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়
সেমি-ফাইনালের টিকেট পাওয়ার আশা মাথায় রেখে পাওয়ার প্লেতে প্রত্যাশামত রান নিতে পারল না বাংলাদেশ। ৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪৬ রান।
সেরা চারে পৌঁছতে ৩৭ বলে প্রয়োজন ৭০ রান। আর ম্যাচ জিততে তাদের আছে ৮৪ বল।
১৯ বলে ২৪ রানে খেলছেন লিটন কুমার দাস। সৌম্য সরকার করেছেন ৮ বলে ১০ রান
দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিতে প্রায় ২৮ মিনিট বন্ধ থাকল খেলা। তবে এবারও কাটা পড়েনি কোনো ওভার। ২০ ওভারে ১১৬ রানের লক্ষ্যেই আবার ব্যাটিং শুরু করল বাংলাদেশ।
৩.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১ রান। ৮ বলে ১৩ রানে খেলছেন লিটন কুমার দাস। ৩ বলে ৬ রান করেছেন সৌম্য সরকার।
আবার বৃষ্টির বাগড়া সেন্ট ভিনসেন্টে। বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বন্ধ হয়ে গেল খেলা।
বৃষ্টি নামার আগে ৩.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০০ বলে ৮৫ রান। তবে সেমি-ফাইনালের টিকেট পেতে ৫৩ বলে করতে হবে এই রান
নাজমুল হোসেন শান্তকে উইকেটে টিকতে দিলেন না নাভিন উল হাক। স্লোয়ার ডেলিভারি ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১ চারে ৫ বলে ৫ রান করলেন শান্ত।
বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে পরের বলেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন সাকিব আল হাসান। লেগ স্টাম্পের ডেলিভারি ব্যাটের সামনের কানায় লেগে ফিরতি ক্যাচ দিলেন তিনি। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলেন নাভিন।
৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪ রান। লিটন কুমার দাস ৮ বলে ১৩ রানে অপরাজিত। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।
নাভিন উল হাকের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় ব্যাটে লাগাতে পারলেন না লিটন কুমার দাস। প্যাডে লাগতেই জোরাল আবেদন। সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। কিছুক্ষণ ভেবে রিভিউ নিলেন রাশিদ খান।
রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে যেত বল। তাই বিপদ ঘটেনি লিটনের। নষ্ট হয় আফগানিস্তানের প্রথম রিভিউ। এর আগের ওভারে বাংলাদেশের একটি রিভিউ নষ্ট করে ফেরেন তানজিদ হাসান।
২.৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৩ রান।
চার ইনিংসের মধ্যে তৃতীয়বার শূন্য রানে আউট হলেন তানজিদ হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ধাক্কা দিলেন ফাজালহাক ফারুকি। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন ৩ বল খেলা তানজিদ।
বিশ্বকাপে ৭ ইনিংসের পাঁচটিতেই দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ তানজিদ। সব মিলিয়ে তার সংগ্রহ মোটে ৭৬ রান।
চলতি বিশ্বকাপে ফারুকির ১৬তম উইকেট এটি। টুর্নামেন্টের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ছুঁলেন তিনি। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও নেন ১৬ উইকেট।
২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৮ রান। ৭ বলে ১৩ রানে খেলছেন লিটন কুমার দাস। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। বৃষ্টিতে প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয়েছে খেলা। তবে কোনো ওভার কাটা পড়েনি। ২০ ওভারে ১১৬ রানের লক্ষ্যেই নেমেছে বাংলাদেশ। সেমি-ফাইনালে পৌঁছতে ১২.১ ওভারে করতে হবে এই রান।
গত কয়েক ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ইনিংস সূচনা করতে নেমেছেন লিটন কুমার দাস ও তানজিদ হাসান।
আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পরপরই নামা বৃষ্টিতে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা এখনও শুরু হয়নি। তবে বৃষ্টি আপাতত থেমে গেছে। তোলা হচ্ছে উইকেটের কভার।
এখন পর্যন্ত ওভার কাটা পড়ার শঙ্কা জাগেনি। তবে খেলা যদি ১৫ ওভারে নেমে আসে তাহলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়াবে ৯৪ রান। সেক্ষেত্রে সেমি-ফাইনালের টিকেট পেতে ৭.৪ ওভারের মধ্যে জিততে হবে বাংলাদেশকে।
আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে থামিয়ে প্রাথমিক কাজটা সেরেছেন বোলাররা। সেমি-ফাইনালের টিকেটের জন্য এবার দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের। ১২.১ ওভারের মধ্যে ১১৬ রান করতে পারলে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেরা চারে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।
এছাড়া ১১৫ রান করে ছক্কা মারতে পারলে ১২.৫ ওভার পর্যন্ত সুযোগ থাকছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। আর স্কোর সমান করে বাউন্ডারি মারলে সুযোগ থাকছে ১২.৩ ওভার পর্যন্ত।
বাংলাদেশের জিততে এর বেশি ওভার লেগে গেলে সেমিতে পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়া।
আর ম্যাচ জিতলে কিংবা বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও সেরা চারের টিকেট পাবে আফগানিস্তান।
আপাতত বৃষ্টির কারণে শুরু হয়নি দ্বিতীয় ইনিংস। মাঠ শুকানোর কাজ করছেন মাঠকর্মীরা
১৯তম ওভারে কাটার-স্লোয়ারের মিশেলে অসাধারণ বোলিংয়ে মাত্র ১ রান দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শেষ ওভারে রাশিদ খানের কাছে জোড়া ছক্কা হজম করলেন তানজিম হাসান। ২০ ওভারে ১১৫ রানে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান।
সেমি-ফাইনালের টিকেট পেতে ১২.১ ওভারের মধ্যে এই লক্ষ্য তাড়া করতে হবে বাংলাদেশের।
করিম জানাতের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৪ বলে ২২ রান যোগ করেন রাশিদ। আফগান অধিনায়ক ৩ ছক্কায় করেন ১০ বলে ১৯ রান। তার এই ক্যামিওতেই মূলত একশ পেরোয় আফগানিস্তান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৮ রান যোগ করেন আফগানরা। মন্থর ব্যাটিংয়ে ১৮ রান করতে ২৯ বল খেলেন ইব্রাহিম জাদরান। আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৫৫ বলে খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস।
দারুণ বোলিংয়ে এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, একশর আগেই আফগানিস্তানকে আটকাতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু রাশিদের শেষের ঝড়ে লড়াই করার পুঁজি পেয়ে যায় আফগানরা।
এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ১২ রানে নেন ১ উইকেট। রিশাদ হোসেনের ৩ উইকেটের জন্য খরচ ২৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১১৫/৫ (গুরবাজ ৪৩, জাদরান ১৮, ওমারজাই ১০, নাইব ৪, নাবি ১, জানাত ৭*, রাশিদ ১৯*; তানজিম ৪-০-৩৬-০, তাসকিন ৪-১-১২-১, সাকিব ৪-০-১৯-০, মুস্তাফিজ ৪-০-১৭-১, রিশাদ ৪-০-২৬-৩)
প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করলেও সাফল্য পাননি তাসকিন আহমেদ। ডেথে নিজের শেষ ওভার করতে এসে প্রথম উইকেট পেলেন এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা ফাস্ট বোলার।
১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে পুল করতে গিয়ে মিড অফে ভাসিয়ে দেন মোহাম্মদ নাবি। সহজ ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানিস্তান।
১৮ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৯৯ রান। ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান করিম জানাত ও রাশিদ খান। নিজের শেষ ওভারে দুই উইকেট নিলেন রিশাদ হোসেন। দীর্ঘসময় ধরে খেলতে থাকা রহমানউল্লাহ গুরবাজের পর চার নম্বরে নামা গুলবাদিন নাইবকেও ফেরালেন তরুণ লেগ স্পিনার।
ওভারের প্রথম বল ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে ডিপ কভারে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেন ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ বলে ৪৩ রান করা গুরবাজ। তার স্ট্রাইক রেট ৭৮.১৮! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত ৪০ রানের সবচেয়ে মন্থর ইনিংস এটি।
দুই বল পর স্লগ করতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন নাইব। এবার ডিপ কভার সীমানা থেকে অনেকটা পথ দৌড়ে সামনে লাফিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন সৌম্য। ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন নাইব।
১৭ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান করিম জানাত ও মোহাম্মদ নাবি।
৪ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিলেন রিশাদ।
রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরের বলেই আজমতউল্লাহ ওমারজাইকে কট বিহাইন্ড করলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
অফস্টাম্পের বাইরের বলে থার্ড ম্যান দিয়ে খেলার চেষ্টায় ওমারজাইয়ের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে জমা পড়ে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে। জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে ১২ বলে ১০ রান করা ওমারজাইকে ফেরায় বাংলাদেশ।
এর আগের বলে ভুল বোঝাবুঝিতে একই প্রান্তে আটকে যান ওমারজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি রিশাদ হোসেন। দ্বিতীয় দফায়ও কাজে লাগানো যায়নি সুযোগ।
১৬ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮৮ রান।
ইব্রাহিম জাদরানকে ফিরিয়ে চলতি বিশ্বকাপে রিশাদ হোসেনের উইকেট এখন ৭ ম্যাচে ১২টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে বাংলাদেশের বোলারদের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি।
২০২১ সালের আসরে ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া চলতি টুর্নামেন্টে তানজিম হাসানও এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ১১ উইকেট।
সব মিলিয়ে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। ২০২১ সালে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
রিশাদ হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ইনসাইড আউট শট খেললেন ইব্রাহিম জাদরান। ঠিকঠাক টাইমিং পেলেন না। লং অফ থেকে বাঁ দিকে অনেকটা দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন তানজিম হাসান।
৫৯ রানে ভাঙল আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। ১ চারে ২৯ বলে ১৮ রান করে ফিরলেন জাদরান। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান আজমতউল্লাহ ওমারজাই।
১১ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৯ রান। ৩৫ বলে ২৮ রানে খেলছেন গুরবাজ।
আরও একবার উদ্বোধনী জুটিতে পঞ্চাশ রান যোগ করলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। চলতি বিশ্বকাপে এ নিয়ে চার ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়লেন আফগানিস্তানের দুই ওপেনার।
টুর্নামেন্টের এক আসরে উদ্বোধনী জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটির রেকর্ড। এর আগে ভিন্ন পাঁচটি জুটি তিনবার করে পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের জুটি গড়েছিল।
এক বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেটে জুটি বেধে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও গড়েছেন গুরবাজ ও জাদরান। চলতি আসরে সাত ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের জুটির সংগ্রহ ৪৩৭ রান। ২০২১ সালে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান জুটি বেধে করেছিলেন ৪১১ রান।
৯ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান। গুরবাজ ৩০ বলে ২৫ ও জাদরান ২৪ বলে ১৬ রানে অপরাজিত।
প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট নিতে পারল না বাংলাদেশ। অবশ্য আফগানিস্তানও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতে তাদের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান।
রহমানউল্লাহ গুরবাজ ২১ বলে ১২ ও ইব্রাহিম জাদরান ১৫ বলে ১০ রানে অপরাজিত।
সেন্ট ভিনসেন্টের চ্যালেঞ্জিং উইকেটে শুরু থেকেই দেখা মিলেছে অসম বাউন্সের। কিছু ডেলিভারি অতিরিক্ত লাফিয়েছে। কয়েকটি আবার একদম নিচু হয়ে গেছে স্টাম্প ঘেঁষে। তবে কোনোভাবে উইকেট বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে আফগান ওপেনাররা।
বাংলাদেশের ব্যর্থতার দায়ও অবশ্য আছে। পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে ৯ রানে থাকা ইব্রাহিমের ক্যাচ নিতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়।
পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে সুযোগ তৈরি করলেন সাকিব আল হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল সজোরে মারলেন ইব্রাহিম জাদরান। শর্ট কভারে মাথার ওপরের ক্যাচ নিতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়। ৯ রানে বেঁচে গেলেন জাদরান।
আগের ৪ ওভারে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বেশ ভালো বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান। বেশ কিছু ডেলিভারিতে পরাস্ত হন জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু বিপদ ঘটেনি তাদের।
৫ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৩ রান। গুরবাজ ১৫ বলে ৮ ও জাদরান ১৫ বলে ১০ রানে খেলছেন। পিচ রিপোর্টে লিসা স্থালেকার ও পমি এমবাঙওয়া বলেছেন, ‘২৪ কিমি. প্রতি ঘণ্টায় বাতাস বইছে। এটি একটি বড় বিষয় হতে পারে। দুই পাশে ৬৭ ও ৭০ মিটার বাউন্ডারি। সোজা বাউন্ডারি ৮০ মিটার। আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচও এই উইকেটে খেলা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা দেখেছি এখানে উইকেটে বাউন্স অসম। তাই দ্রুত রান করা কঠিন। সময় নিয়ে ইনিংস লম্বা করার পথে হাঁটতে হবে। স্পিনারদের জন্য ঠিক আছে, পেসারদের জন্য ঠিক আছে তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব কঠিন। বড় রানের ম্যাচ হয়তো দেখা যাবে না।


