শাহরাস্তিতে অধ্যক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের শাহরাস্তির ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর ক্লাসে ফিরে যান শিক্ষকরা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সহকারী অধ্যাপক কামাল উদ্দিন তপাদারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। একই দিন দুপুরে প্রভাষক তাজুল ইসলামের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন। রোববার সকালে কর্মসূচি চলাকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অনেককে বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ তার আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় তারা ক্লাসে ফিরে যাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

প্রভাষক তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা পরিস্থিতির শিকার। লাঞ্ছিত হয়েও মুখ খোলার সুযোগ নেই। সেদিন অধ্যক্ষ আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার অঙ্গীকার করে তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা দেলাওয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি এটিকে প্রতিষ্ঠানের ‘ঘরোয়া বিষয়’ উল্লেখ করে বলেন, “এগুলো বাইরে যাওয়ার কথা নয়।” সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, অধ্যক্ষ এর আগেও একাধিকবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চারজন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধ্যক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।