স্টাফ রিপোর্টার:
প্রথম পক্ষের অভিযোগ গোপন রেখে দ্বিতীয় পক্ষের কাউন্টার মামলা আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ফরিদগঞ্জ থানার এক (এএসআই) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে এবং সালিশ চলমান থাকা অবস্থায় পক্ষপাতিত্ব করে অভিযোগের রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ জমি সংক্রান্ত ও চলাচলের বিরোধ নিয়ে মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য থানার সাবেক ওসি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই মোহাম্মদ আলীকে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন তিনি এবং বাদী পক্ষকে অভিযোগের বিষয় সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর পরে গত ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে বিবাদী পক্ষের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে পাল্টা একটি মিথ্যা ও সাজানো পাল্টা অভিযোগ করে থানায়। অভিযোগ বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেন একই কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ আলী।
প্রথম পক্ষের বাদি মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার জানান, আমাদের চলাচলের পথে জাহাঙ্গীর গংরা দেওয়াল তুলতেছে। আমি গত ডিসেম্বর মাসে প্রথমে আরমি ক্যাম্পে যাই, সেখান থেকে থানায় পাঠায়, একটা অভিযোগের পর এএসআই মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে। কিছুদিন পরে জাহাঙ্গীর থানায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। দারোগা আমাদেরকেও থানায় ডেকে উভয়ের সালিশ নামা করে এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য আমাদের (৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন) চেয়ারম্যান শাহ আলমকে বিরোধ মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দেন। এরপরে মেম্বারসহ গণ্যমান্যরা স্থানীয়ভাবে দুইবার বৈঠক হয়েছে। মাফ জরিপও হইছে। আরেকটা বৈঠকে সমাপ্ত করবে। কিন্তু সালিশ চলমান থাকা অবস্থায় আমাদের অভিযোগটি ডায়েরিভুক্ত বা রেকর্ড না করে গোপন ফাইলবন্দি করে রাখেন। উল্টো মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের কাউন্টার অভিযোগটিকে আমাদেরকে না জানিয়ে এমনকি চেয়ারম্যান ও সালিশদেরকেও না জানিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেন। আপনারা প্রয়োজনে চেয়ারম্যান মেম্বারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
প্রথম পক্ষের মোহাম্মদ হোসেন তালুকদারের ছেলে আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়াল তুলতেছে, থানায় অভিযোগ করলে এএসআই মোহাম্মদ আলী তদন্ত করে। উনি দ্বিতীয় পক্ষের অভিযোগ আমলে নিয়ে চেয়ারম্যান এর অধীনে সালিশ চলমান, এমন অবস্থায় আমাদের অভিযোগ গোপন রেখে তাদের অভিযোগ কোর্টে পাঠায়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আমাদের অভিযোগ গায়েব করে দিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের মিথ্যা অভিযোগ আদালতে পাঠিয়েছেন। আমরা এখন আসামির কাঠগড়ায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ইউপি সদস্য ইয়াছিন জানান, মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার ও জাহাঙ্গীরদের বিরোধে ঘটনায় বর্তমানে সালিশ চলমান, দারোগা যে রিপোর্ট কোর্টে পাঠিয়েছে, তা আমরা অবগত নই। আমাদেরকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
৯নং গোবিন্দপুর উঃ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার ও জাহাঙ্গীর দের বিরোধের ঘটনায় দারোগা থানায় উভয়েকে ডেকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা সার্ভেয়ার এনে উভের সমস্যা সমাধানের জন্য দুইবার বৈঠক করি। বর্তমানে সালিশ চলমান। তবে সমাধান শেষ পর্যায়ে। এরমধ্যে দ্বিতীয় পক্ষের অভিযোগ দারোগা কোর্টে পাঠিয়ে দিছে, তা আমি কিছুই জানি না। আমাকে দারোগা রিপোর্ট দেয়ার আগে কিছুই জানায় নাই। সমাধানের জন্য যারা জড়িত, তারাও কিছুই জানে না।
এ বিষয়ে একজন আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাধারণত কোন সমস্যা হলে মানুষ থানায় অভিযোগ করে। পুলিশ উক্ত অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য কোর্ট করবে। কিন্তু একটি পক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ গোপন রেখে অপর পক্ষের কাউন্টার মামলা আদালতে পাঠানো স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের চরম লঙ্ঘন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ আলী জানান, আমি দুই মাস আগে রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি, বর্তমানে মতলবে আছি, এখন আর কি বলবো?
ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন ন্যায়বিচারের আশায় জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।


