ফরিদগঞ্জে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত বেঁড়েছে

শামীম হাসান:

ফরিদগঞ্জে অনলাইনে জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে শিশু-কিশোররা। পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনের সিংহভাগ সময়ই তারা ব্যয় করছে মোবাইল গেমিংয়ের পেছনে। এছাড়া অনলাইনের রেটিং সাইটগুলোতেও রয়েছে তাদের অবাধ চলাচল। অনেকেই জুয়ার টাকা যোগাড় করতে অল্প বয়সেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে জড়িয়ে পড়েছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে। ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে গ্রামের প্রায় সবখানেই কিশোরদের দলবেঁধে মোবাইলে ঝুঁকে থাকার দৃশ্য। যে বয়সে মাঠে খেলাধুলা করার কথা, সেখানে তারা ডুবে রয়েছে মোবাইলে গেমের নেশায়। শিশু-কিশোরদের প্রচন্ড আসক্তি বেড়েছে মোবাইল গেমিংয়ের প্রতি। বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটছে তাদের মোবাইল গেইমের পেছনে। মোবাইলে গেইম খেলতে গিয়ে কেউ কেউ খরচ করছে হাজার হাজার টাকাও। অনলাইনে বাজি খেলার সংখ্যাটাও কম নয়। বিভিন্ন ধরনের বেটিং সাইট তৈরি হচ্ছে কিশোরদের টার্গেট করে। দ্রæত সময়ে কয়েকগুণ টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছে অনেকেই এই গেইমে।

মোবাইল গেমিং ও জুয়ায় আসক্ত একাধিক তরুণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, গেমিংয়ের আপডেট ভার্সন ইন্সটলেশনের জন্য তারা মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থাকে। টপ-আপ করার নামে ধাপে ধাপে অর্থ ব্যয় করে কিনতে হয়। গেমসের একেকটি ফিচার সুবিধা। এসব টাকা জোগাড় করতে অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে পড়েছে। কেউ কেউ দামি মোবাইল কেনার আশায় পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। উঠতি বয়সীদের এমন মোবাইল আসক্তিতে শঙ্কায় অভিভাবকরাও।

বড়ালী শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক সোহেল হোসেন, লাউতুলি কলেজের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনির মফিজ হোসেন,ইব্রাহীম মিয়াসহ আরো কয়েকজন অভভাবক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসের বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টের কথা বলে সন্তানরা মোবাইল নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল নিতে চাইলেও কথা শোনেনা। তাই সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপের দাবি অভিভাবকদের। বেশিরভাগ মোবাইল গেম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও, ভিপিএন নামের একটি সপ্টয়ারের মাধ্যমে তাতে যুক্ত থাকে এসব শিশু-কিশোররা। স¤প্রতি সময়ে অনলাইন জুয়া বা মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে শিশু-কিশোররা তাদের মেধা শক্তি হারাচ্ছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা। নতুন এ মোবাইল গেমিং আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুধি মহল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া বলেন, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিভাবক ও শিক্ষকরা আরো সচেতনতার সাথে তাদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। তারা যেন শুধ ুমোবাইল গেইমসের নেশা ন, ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, এমন কোননেশার সাথেযেন না জড়াতে পারে। আমরাও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেনতা সভা অব্যাহত রেখেছি।