ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার মুক্ত হচ্ছে চাঁদপুর

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর:
ভূমিহীন গৃহহীন পরিবার মুক্ত চাঁদপুর। অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষণার। মঙ্গলবার ১১ জুন প্রধানমন্ত্রী জমিসহ গৃহপ্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলাকে ভূমিহীন- গৃহহীন ঘোষণা করবেন। রবিবার (৯ জুন) বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকা অনুযায়ী ১২৯০ টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করায় জেলায় ভূমিহীন পরিবার নেই। তাই আগামী ১১ জুন প্রধানমন্ত্রী জমিসহ গৃহপ্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলাকে ভূমিহীন- গৃহহীন ঘোষণা করবেন। উপজেলা ভিত্তিক সদরে ১৫৭, ফরিদগঞ্জে ৫৬, কচুয়া ৯৩,  হাজীগঞ্জ ৮৪ , মতলব দক্ষিণে ১৯৪, মতলব উত্তরে ১৫৫, শাহরাস্তিতে ৫৮ ও  হাইমচর উপজেলায় ৪২৩ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে ।

চাঁদপুর একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় পরবর্তীতে নদী ভাঙন কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে ভূমিহীন পাওয়া গেলে তাদেরকে যাচাই-বাছাইক্রমে পুর্নবাসন করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে  জানানো হয়, মুজিববর্ষে “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের ৫ম পর্যায়ের (২য় ধাপ)  উদ্বোধন করবেন ১১ জুন । সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকা অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার মোট ১২৯০ টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মধ্যে সকলকে পুর্নবাসন করায় আপাতত চাঁদপুর জেলায় কোন ভূমিহীন নেই। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন।  সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকা অনুযায়ী চাঁদপুর জেলায় ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এর সংখ্যা ১২৯০টি। ১ম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১৩৫ টি, ২য় পর্যায়ে ১০৯টি, ৩য় পর্যায়ে ১২৩ টি এবং ৪র্থ পর্যায়ে ২১১ টি অর্থাৎ চারটি পর্যায়ে সর্বমোট ৫৭৮ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য পুর্নবাসনের আওতায় (ব্যারাক, গুচ্ছগ্রাম, খাস জমি বন্দোবস্ত) আরো ৭১২ টি পরিবারকে ইতোমধ্যে পুনবার্সন করা হয়েছে। এ সকল পরিবারকে এক টাকা সেলামীতে দুই শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। উক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে কবুলিয়ত রেজিস্ট্রেশন, নামজারী ও জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন, সনদপত্র প্রদানসহ সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক কবুলিয়ত দলিলের জন্য পরিবার প্রতি ২৫৮ টাকা, নামজারী ও খতিয়ান প্ৰদান বাবদ ১১৭০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এতে নামজারী, জমি রেজিস্ট্রেশন ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ তাদের কোন টাকা ব্যয় করতে হয় নি। প্রতিটি একক গৃহের আয়তন ৪০০ বর্গফুট। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহে একটি টয়লেট, একটি রান্নার কক্ষ ও একটি ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে।