ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম জয়

স্টাফ রির্পোটার:

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। আর প্রথম ম্যাচেই রচিত হলো মহাকাব্যিক এক ইতিহাস! স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৬ জুন, ২০২৬) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তার জোড়া গোলেই এসেছে এই অবিস্মরণীয় জয়। ইতিহাস গড়ার এই রাতে বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচটিও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সান মারিনোর (২১১) চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ (১৮১) ম্যাচ জুড়েই নিজেদের দাপট বজায় রাখে। যদিও শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত সোম ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে ম্যাচের ১৯ মিনিটেই লিড নেয় বাংলাদেশ। তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রস থেকে এক উড়ন্ত হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।

তবে ম্যাচের দখল ধরে রাখলেও লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩১ মিনিটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিক সান মারিনোকে সমতায় ফেরান নিকোলাস জিকোপেত্তি। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে আরও একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, তবে সাদ উদ্দিন সেটি কাজে লাগাতে না পারায় ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

১-১ সমতায় থেকে বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে তিন পরিবর্তনের পর লাল-সবুজের দল বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখে। ম্যাচের ডেডলক ভাঙে একদম শেষ মুহূর্তে। ৮৬ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে আসেন তপু বর্মন। তার দৃষ্টিনন্দন গোলে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ম্যাচের বাকি সময়ে সান মারিনো আর গোল শোধ করতে পারেনি। ফলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই সেরাভালে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকেরা মেতে ওঠেন ইতিহাস গড়ার বাঁধভাঙা উল্লাসে।