স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর গজরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার হাফিজ মুন্সির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গজরা ইউনিয়নের ৫৩ নম্বর গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংক নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তার হেরিংবন্ড উন্নয়ন কাজের জন্য মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সেফটি ট্যাংক নির্মাণে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং রাস্তা উন্নয়ন কাজে ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেফটি ট্যাংক নির্মাণের নামে নতুন কোনো ট্যাংক নির্মাণ করা হয়নি। বরং পুরোনো ট্যাংকের ওপর সামান্য সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। পুরো কাজেই মাত্র একটি সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিলও উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তার উন্নয়ন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, নতুন ইট ব্যবহারের পরিবর্তে পুরোনো ও নিম্নমানের ইট দিয়ে ইটসোলিং নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেন। তবে পরে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর আগে হাফিজ মুন্সির বাড়িতে যাওয়ার পথে একটি পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণ প্রকল্পে লোকসান হয়েছিল। সেই লোকসানের অর্থ সমন্বয়ের জন্য বর্তমান প্রকল্পের বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ৫৩ নম্বর গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বলেন, “আমাদের না জানিয়েই কাজগুলো করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকটি আগেই ভালো অবস্থায় ছিল। স্কুল বন্ধ থাকার সময় ট্যাংকের ওপর সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ট্যাংকটি মেরামতের প্রয়োজন হলে আমরা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করতাম।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গজরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজ মুন্সি বলেন, “এই কাজ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমার যতটুকু জানা আছে, প্রকল্পের কাজগুলো করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ।
এ বিষয়ে গজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতি শহীদ উল্লাহ বলেন, “বিএনপি নেতা হাফিজ মুন্সি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটি প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে প্রকল্পগুলোর তদারকির দায়িত্ব ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেই বিল প্রদান করেছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মুনি বলেন, “সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প দুটির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তারা মনে করছেন।


