স্টাফ রির্পোটার:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই একটি মেলা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মেলার আড়ালে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে এবং সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে এমন আয়োজন পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতভর মাইকের বিকট শব্দে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
গাজীপুর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “পরীক্ষা একেবারে সামনে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এত জোরে গান বাজানো হয় যে বই নিয়ে বসেও মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”
এসএসসি পরীক্ষার্থী আশিক রহমান বলেন, গত সাত দিন ধরে মেলার মাইকের বিকট শব্দের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলায় বিশ্রামও নেওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অন্তত পরীক্ষার সময় মেলা বন্ধ রাখা উচিত ছিল। কিন্তু আয়োজকদের বারবার অনুরোধ করেও কোনো সুফল মেলেনি।
গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের মাত্রাও বেড়ে যায়। এতে ছোট শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মেলা না করার অনুরোধ জানালেও উল্টো তাকে হুমকি ও ধমক দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে মেলার পরিচালক ফিরোজ বলেন, “সরকারি জায়গায় মেলা দিতে আবার কিসের অনুমতি?” তবে তিনি অনুমতির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এদিকে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, গাজীপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসা অস্থায়ী মেলার জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। অবৈধভাবে পরিচালিত এ মেলা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও বিতর্কিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


