মতলব উত্তরের সিপাইকান্দিতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর সিপাইকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র‍্যালি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি ও সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে জনগণের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সিপাইকান্দিসহ মতলব উত্তরের প্রতিটি গ্রামকে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। যারা মাদককে প্রশ্রয় দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিপাইকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি সালাউদ্দিনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ পাটোয়ারী, মতলব উত্তর থানার এসআই সবুজ, মুসল্লী জিল্লুর রহমান সিপাই এবং মাজহারুল ইসলাম মাসুম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক একে এম গোলাম নবী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর থানার এসআই আল-আমিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী জিসান, সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন বেপারী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুম্মান তারেক, মাজহারুল ইসলাম, মো. কুদ্দুস, হোসেন আহমেদ, নাঈম মিয়াজিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।