বৃষ্টির প্রভাবে মতলবে আয় কমেছে শ্রমজীবীদের

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে বাজারে ক্রেতা ও সড়কে যাত্রী কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলার ছেংগারচর বাজার, নতুন বাজার, সুজাতপুর, কালির বাজার, কালিপুর, সাহেব বাজার, এখলাসপুর ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বর্ষণে অধিকাংশ বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল অনেক কম। নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় গ্রামীণ এলাকার মানুষের যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক কামাল হোসেন বলেন, আগে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা আয় হতো। এখন ৭০০ টাকাও হচ্ছে না। অথচ গাড়ির কিস্তি, চার্জ এবং সংসারের খরচ আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।

চা বিক্রেতা মাসুদ জানান, বৃষ্টির কারণে বাজারে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। সারাদিন দোকান খোলা রাখলেও বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। অনেক সময় তৈরি করা চাও বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে।

ভ্যানচালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি বাড়লে আয় আরও কমে যায়। দিনমজুর করিম মিয়া জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় টানা তিন দিন কোনো কাজ পাননি। সংসারের ব্যয় মেটাতে ধারদেনা করতে হচ্ছে।

মুদি ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য পণ্যের বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন।

সবজি বিক্রেতা আর্শাদ হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাও কমে গেছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কাপড় ব্যবসায়ী শামীম মিয়া জানান, ঈদের পর থেকেই ব্যবসা কিছুটা মন্দা ছিল। টানা বৃষ্টিতে সেই মন্দা আরও বেড়েছে।

সুজাতপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।