স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত সমাবেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহসিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, অভিভাবক সমাবেশে অধিকসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের গতানুগতিক পড়ালেখার পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভালো ফলাফল অর্জনের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আজকের এই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৪টি জিপিএ-৫ সহ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। কিন্তু জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো না হলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির উপর দায় আসে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট মেধাবী ও আন্তরিক। তাদের আরও ভালোভাবে পরিচর্যা করতে হবে।
সোহেল রুশদী বলেন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হিরা এ প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রাখেন। যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং ভালো ফলাফল করবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
একইভাবে যেসব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করবে, সেসব বিষয়ের শিক্ষকদেরও পুরস্কৃত করা হবে। পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হবে। অসহায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রয়োজন হলে আমাকে বলবে, আমি শিক্ষা উপকরণ দিব।
তিনি বলেন, প্রাক-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবে, তাদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শতভাগ শিক্ষার্থী যাতে পাস করে, সেভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য মাসে অন্তত একটি পরীক্ষা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক মডেল টেস্টেরও আয়োজন করা যেতে পারে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ঘোষিত নজরুল বর্ষ যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নজরুল বর্ষের কর্মসূচি পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে হবে। পড়ালেখাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাসমুখী করতে হবে। শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের পড়া আদায় করে নিতে হবে। বিষয়ভিত্তিকভাবে শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ফলাফল খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও এর দায় নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো ফলাফল করবে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। অভিভাবকদেরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে সন্তানদের পড়াশোনার খোঁজ নিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের প্রাইভেট পড়ানো যাবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক মো. হানিফ মিয়া ও মো. জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ। এছাড়া ২৯নং উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দিদার হোসেন মিজি, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, সহকারী শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মো. লৎফুর রহমান, বিপুল চন্দ্র নন্দী, মো. গিয়াস উদ্দিন, সুমন চন্দ্র সরকার, অফিস সহকারী মো. মোস্তফা কামাল, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো. রানা সরকারসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন পশ্চিম ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. ইব্রাহিম মিজি ও মো. লিটন মিজি।
এদিকে একই দিন সকাল ১০টায় উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
সমাবেশে ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. তহমিনা আক্তার, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রুবিনা আক্তার, মেহেরুন্নেছা, সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর দে, মুহা. আবদুল মান্নান, মো. নেছার আহমেদ খান, সহকারী শিক্ষিকা মানছূড়া আক্তার, সহকারী শিক্ষক মাহবুব আলম গাজী, প্রমথ সরকার, মনির হোসেন, সহকারী শিক্ষিকা বিথী আক্তারসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবক সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি জিলানী চিশতী কলেজের নির্মাণাধীন লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে সরকারিভাবে প্রাপ্ত ফুটবল বিতরণ করেন।


