চাঁদপুর শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বারচে আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার :

ভাদ্র মাস শুরু হতেই চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুর পথচারীদের তাড়া করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা পড়েছেন বেশি বিপাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর ও সকালবেলা রাস্তায় বের হলেই বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়। কখনো একা, আবার কখনো দলবদ্ধ হয়ে এসব কুকুর পথচারীদের পিছু নেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে দৌড় দেন কিংবা পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ব্যস্ত সড়কে কুকুরের তাড়া খেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মোড় এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। এ সময় পথচারীদের দিকে একাধিক বেওয়ারিশ কুকুরকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া গুয়াখোলা রোড, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, মুন্সেফপাড়ার গলি, ছায়াবানী মোড়, হাজী মহসিন রোড, বিপনীবাগ বাজার, স্ট্যান্ড রোড, কবি নজরুল সড়ক, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ দেখা যাচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে এসব কুকুর দলবদ্ধ হয়ে সড়ক ও অলিগলিতে ঘোরাফেরা করে। কোনো পথচারী দৌড় দিলে কিংবা হেঁটে যাওয়ার সময় কুকুরগুলো তাড়া করলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও উন্মুক্তভাবে খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকায় কুকুরের আনাগোনা বাড়ছে বলেও মনে করছেন তারা।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অনেক শিশু একা রাস্তায় হাঁটতে ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে কুকুরের দল দেখলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের ইনচার্জ মো. সাদেকুর রহমান জানান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ডোজ জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়। তবে চাঁদপুর জেলায় কুকুরের তুলনায় বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেশি।

তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্ট মাসে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে পুরো জেলা থেকে ১৪৭ জন রোগী হাসপাতালে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। অন্যদিকে বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৭৫০ জন।

বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।