স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে যৌথ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। চাচা আব্দুল মতিন তার ভাতিজা গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। যদিও অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন ভাতিজা গিয়াস উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহাপুর গ্রামীণ বাজার সংলগ্ন (ছাড়া বাড়ি) আব্দুল মতিন ও তার ছেলে সুমন একই বাড়ির ভাতিজা ও চাচাতো ভাই গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌথ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন তাদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। হটাৎ করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, আমরা যতটুকু শুনেছি, আব্দুল মতিনের ছেলে সুমন বাজারে বলেছে, গিয়াস উদ্দিন যে জায়গাতে বেড়া দিয়েছে, তা তাদের যৌথ সম্পত্তি (এজমালি)। ওই দিকে গিয়াস উদ্দিন বলতেছে তাদের সম্পত্তি।
আব্দুল মতিন ছেলে সুমন জানান, আমাদের কোন সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, দাদার আমল থেকেই যার যে এরিয়া, সে ওই এরিয়াতে ভোগদখল করে যাচ্ছে। কিছু সম্পত্তি যৌথ (এজমালি) রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের বাড়ির প্রবেশ পথে যৌথ সম্পত্তি আছে। যে সম্পত্তি গত ত্রিশ বছর দরে শুনে আসছি যৌথ (এজমালি)। সে সম্পত্তি আমার চাচাতো ভাই গিয়াস উদ্দিন জোরপূর্বক দখল নিয়েছে। সে গত ৫ আগস্টের আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে হয়রানি করেছে। এখনও সে জোর জবরদখল করে যাচ্ছে।
আব্দুল মতিন জানান, এই সম্পত্তিটা আমাদের সব ভাইদের যৌথ, কারণ, এখানে বাড়ি থেকে বের হওয়ার মেইন পথ, এর পাশেই যৌথ পুকুর ঘাট। ভাতিজা গিয়াস উদ্দিন নিজের দাবি করে জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে। অথচ বাবদাদার আমল থেকে এটা যৌথ সম্পত্তি। ভাতিজা বাড়ির অন্যান্য সম্পত্তি নিয়েও প্রায় সময় জামেলা করে আসছে। যতবারই স্থানীয় গণ্যমান্যরা সমাধান করার চেষ্টা করে। ততবারই ভাতিজা তার মত নাহলে সমাধান মানে না। বাড়ির সৌন্দর্য নষ্ট করে এককভাবে যৌথ সম্পত্তি দখল করে আছে, আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ন্যায় বিচার কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয় মিথ্যা দাবি করে গিয়াস উদ্দিন জানান, কাগজপত্র অনুযায়ী এই জমির প্রকৃত মালিক আমরা। তারা মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। যে সম্পত্তিতে আমরা বেড়া দিয়েছি, এখানে আধা শতাংশ করে দুই খণ্ড সম্পত্তি আছে, এক খণ্ড তাদের, আরেকটা আমাদের। পূর্বেও এখানে বেড়া ও সুপারি গাছ ছিলো। মাঝখানে উভয়ের মধ্যে স্ট্যাম্প হয়েছে। পুকুর ঘাট ও চলাচলের প্রয়োজনে উভয়ের জায়গা পাকা থাকবে। কিন্তু তারা তাদের প্রয়োজনে রীতিমত ব্যবহার করে যাচ্ছে। তাই আমরাও আমাদের জায়গাতে বেড়া দিয়েছি।
এ বিষয়ে পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহমেদ রাজন জানান, গত আড়াই বছর আগে আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে, উভয় পক্ষকের সমস্যা শুনে তাদের মত করে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সমাধান করে দিয়েছি। কিন্তু গিয়াস উদ্দিনগং পরবর্তীতে তা মানে নাই। বর্তমানে কোন পক্ষ আমার কাছে আসে নাই।


