ইসহাক ইসলাম জায়ান
সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা থেকে চাঁদপুরে আসা নিউ মেঘনা রানী লঞ্চের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ২৫০ টাকার টিকিটে ৩০০ টাকার সিল মেরে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী।
যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারি সিদ্ধান্ত বা নতুন ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা না থাকলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ টিকিটের ওপর বাড়তি ভাড়ার সিল দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। এতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এভাবে ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিউ মেঘনা রানী লঞ্চের সুপারভাইজার জালাল আহমেদ। তিনি জানান, লঞ্চে ব্যবহৃত এসব টিকিট পুরোনো। আগের দফায় ভাড়া বাড়ানোর সময় টিকিটগুলো ছাপানো হয়েছিল। ফলে পুরোনো টিকিটেই নতুন ভাড়ার সিল মেরে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পুরোনো টিকিটের কারণেই এভাবে সিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে গত ৫ মে থেকে নৌযানের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুর নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই। কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য।
তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যাত্রীদের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে কিংবা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ যেন আর না ওঠে, সেজন্য চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


