স্টাফ রিপোর্টার
‘সমাজ গড়বো মোরা নাটকের আলোয়’ প্রতিপাদ্যে কুমিল্লায় দুই দিনব্যাপী অভিনয় কর্মশালা শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে শুক্রবার ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় চাঁদপুরের ছয়টি নাট্য সংগঠনের ১৩ জন নাট্যশিল্পীসহ চাঁদপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক নাট্যশিল্পী অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কর্মশালা হচ্ছে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি অন্যদেরও শেখাতে হবে। প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মঞ্চনাটকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নাটকের মাধ্যমে সমাজের চ্যুতি-বিচ্যুতি, অসংগতি ও নানা সমস্যা তুলে ধরা সম্ভব। তাই সমাজ পরিবর্তনে নাট্যচর্চাকে আরও বেগবান করতে হবে। নাট্যশিল্পীদের বর্তমান ‘ক্লান্তিকাল’ থেকে বেরিয়ে এসে নাটককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় নাট্যকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তারা বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরারও শক্তিশালী মাধ্যম।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কুমিল্লার সদস্য মো. খোরশেদ আলমের পরিচালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অনুষ্ঠান সম্পাদক খন্দকার মো. শাহ আলম খন্দকার, আবৃত্তিকার মাহতাব সুমন, কুমিল্লার সাবেক কালচারাল অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমেদ, প্রশিক্ষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম প্রামাণিক সম্রাট, কুমিল্লার কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান, মো. মামুনসহ অন্যরা।
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নাট্যশিল্পীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ এলাকায় নাট্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।


