প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করলেন অধ্যক্ষ আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মো. আবুল কালাম আজাদ। শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা, পাঠদানে দক্ষতা ও সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং মানবিক গুণাবলির চর্চাসহ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাধ্যমিক (কারিগরি) পর্যায়ে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এর আগে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কারিগরি ক্যাটাগরিতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের গৌরব অর্জন করেন তিনি। পরে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেন।

গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পাওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ আমার শিক্ষকতা জীবনের জন্য এক অনন্য গর্ব ও পরম আনন্দের মুহূর্ত। আমাকে এভাবে সম্মানিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন স্যারের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে এ সম্মাননার জন্য মনোনয়ন ও সুপারিশ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় উপজেলা প্রশাসন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তাঁর সহকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এ অর্জন আমার একার নয়। এ অর্জন টিএসসি কচুয়া পরিবারসহ কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাঁদের কাছেও আমি ঋণী। আমার দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের সদস্য, স্ত্রী ও সন্তানদের নিরন্তর ত্যাগ, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তিনি বলেন, এ সম্মাননা তাঁর গর্বের পাশাপাশি দায়িত্বও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৮ কোটি মানুষের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এ স্বীকৃতির মর্যাদা রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশ ও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি। একটি দক্ষ, সুশিক্ষিত ও কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাকে নিজের স্বপ্ন ও মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দেন।

কৃষিবিদ মো. আবুল কালাম আজাদ ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আবুল খয়ের মিয়া মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাদা মরহুম রহিম উদ্দিন চংদার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী ওই উপজেলার প্রথম ব্যক্তি ছিলেন।

ছোট বেলা থেকেই বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। ১৯৮০ সালে সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তিনি মেধাবৃত্তি লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে চৌগ্রাম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন।

পরে ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হয়ে বিএসসি ফিশারিজ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ থেকে এমএস ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি। শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এই শিক্ষাবিদ।

২০০০ সালের ৮ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য দপ্তরে বায়োলজিস্ট পদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর মাঠপর্যায়ে মাছ চাষের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে মাছ চাষের আধুনিক কলাকৌশল ও ব্যবস্থাপনা, ফিশ কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং-১ এবং ফিশ কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং-২সহ মাছ চাষবিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যবই রচনা করেন। পাশাপাশি একাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধও প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল শরীয়তপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে চিফ ইনস্ট্রাক্টর (ফিশ কালচার) পদে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই পদে লক্ষ্মীপুরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সাল থেকে কচুয়া উপজেলার গুলবাহারে অবস্থিত কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা, পাঠদানে দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষক হিসেবে তার এ অর্জনে কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।