কচুয়ায় বিয়ের ৫ মাসে নববধূর সন্তান প্রসব

স্টাফ রিপোর্টার

কচুয়া উপজেলায় বিয়ের মাত্র ৫ মাস ১দিনের মাথায় এক নববধূর পুত্র সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। উপজেলার শাসনপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন প্রধানিয়া বাড়িতে (চুইল্লাগো বাড়ি) এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার শাসনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর উত্তর বৈদ্য সরকার বাড়ির সুখ মিয়া সরকারের ছেলে আশিকুর রহমানের সাথে ২০২৬ সালের ২২ মার্চ মধ্যরাতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সুরাইয়া আক্তার বিয়ের আগে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এলাকার সুন্দুলপুরে একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করতেন। বিয়ের প্রায় ৫মাস ১দিন পর গত ২৪ আগস্ট তারিখে দাউদকান্দি-গৌরীপুর এলাকার দেশ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সুরাইয়া আক্তার। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে সামির হোসেন। বিয়ের সময়কাল ও সন্তান জন্মের সময়ের ব্যবধান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে স্বামী আশিকুর রহমান সন্তানের খোঁজখবর নিলেও বর্তমানে মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর না নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন রেখেছেন। ৫ মাস ১দিনে একটি নবজাতক সন্তান কী করে জন্ম হয়, এ নিয়ে আশিকের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নানান কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সন্তানের মা সুরাইয়া আক্তার জানান, তার প্রচন্ড ডায়াবেটিস ছিল, যা তার স্বামী আশিকও জানতেন এবং মতলবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। ডায়াবেটিসের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তার স্বামী তার শিশু সন্তানের পক্ষে রয়েছেন। তবে স্বামীর বোনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে স্বামী ও সন্তানের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সুরাইয়া আক্তারের স্বামী আশিকুর রহমান মুঠোফোনে তার এক চাচার সাথে কথোপকথনে ৫ মাসে কীভাবে সন্তান জন্ম হওয়া দাবি করে বিষয়টি সমাধান চেয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।