প্রত্যাশার ইলিশে মিলেছে হতাশা 

বিল্লাল ঢালী:

মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম শেষ। উঠে গেছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। সোমবার (৪ নভেম্বর) থেকে চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনায় শুরু হয় জেলেদের বিচরণ। অভিযান শেষে জেলে এবং ইলিশ ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল ঝাকে ঝাকে ইলিশ। ইলিশ বিক্রি করে চলবে জেলের সংসার ও শোধ হবে ঋণ। ইলিশের প্রাপ্যতা বেশি হলে কিছুটা কম দামে কিনে খাবে ক্রেতা। মধ্যরাতে জেলেরা মাছ ধরতে নেমেছেন। সকালের সূর্যোদয়ের সাথে প্রত্যাশার ইলিশ হতাশা বয়ে এনেছে জেলে এবং ক্রেতাদের মাঝে। কারণ কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মেলেনি জেলেদের জালে। ইলিশের যোগান কম থাকায় বিক্রি হয়েছে বাড়তি দামে। অভিযান শুরুর পূর্বে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে রপ্তানির অজুহাতে ২৪শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল ইলিশ। অভিযান শেষে প্রথম দিন সেখান থেকে ৬শ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ইলিশ।

অভিযান শেষে প্রথম দিনে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে ইলিশ বিক্রি হয়েছে, ১৪শ গ্রামের উপরে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৪শ টাকায়। ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৮শ টাকায়। ৭শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৪শ টাকা কেজি দরে। ৫শ থেকে ৬শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২শ টাকা কেজিপ্রতি।

সকালে চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি অস্থায়ী মাছের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ জেলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন নদীতে। তারা যখন নদী থেকে ফিরেছেন তখন সাথে ছিল সামান্য কিছু মাছ। যা বিক্রি করে তাদের হাতে এসেছে নৌকার তেল আর নদীতে খাওয়া-দাওয়া বাবদ যে টাকা খরচ হয়েছে তা। নিজেদের পরিশ্রমের মূল্য জোটেনি কপালে।

চাঁদপুর হরিনা ফেরিঘাটে অস্থায়ী মৎস্য আড়ৎগুলোর সামনে কথা হয় জেলে কামাল হোসেনের সাথে তিনি বলেন, রাত ২ টায় নদীতে নেমেছি। সকাল সাতটা বাজে ফিরেছি তীরে। এই সময়ের মধ্যে যা মাছ পেয়েছি তা বিক্রি করে হাতে এসেছে ৪ হাজার টাকা মাত্র। নৌকায় আমার সঙ্গে আছেন আরো ৬ জন। রাতে নৌকার তেল কিনেছি বারোশো টাকার। দোকান থেকে নাস্তা কিনেছি হাজার খানিক টাকার। আবার মাছ ধরতে যাব তার জন্য তেল কেনার টাকা রাখতে হবে। হিসাব মিলাতে পারছিনা। আমি এই টাকা থেকে কি নিব আর যারা আছে সাথে তাদের কি দেব। অভিযান সময়ে নৌকা জাল মেরামত করেছি । এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। আশা ছিল কিছু মাছ ধরা পড়বে জালে। তা থেকে সংসার চলবে ও ঋণের কিস্তি শোধ হবে। নদীতে যা অবস্থা এখন দেখি এর কিছুই হবে না। আল্লাহ জানে সামনে কি করবো।

দক্ষিণাঞ্চলের সবচাইতে বড় ইলিশের আরো চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাট। অভিযান শেষে প্রথম দিন এখানে ইলিশ মাছ এসেছে ৫০ মনের নিচে। যা বর্তমান সময়ে দিনের চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। কয়েক বছর পূর্বেও এ সময় এখানে মাছ আসতো ৪শ থেকে ৫শ মন। মাছের যোগান কম হলেও প্রথম দিন ক্রেতা সমাগম ছিল বেশ। মাছের কিছুটা বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা ফিরে গেছেন মাছ না কিনে। বড় স্টেশন মাঝঘাটে ইলিশ মাছ কিনতে আসা ক্রেতা শাহরাস্তির জাকির হোসেন বলেন, ভেবেছিলাম অভিযান শেষ প্রথম দিন হিসেবে এখানে মাছ অনেক আসবে। কিছুটা কম দামে মাছ কিনতে পারব। এখন দেখি এখানকার চিত্রটা একেবারে ভিন্ন। মাছ আছে তবে খুব অল্প। যার কারনে দাম চাচ্ছে বেশি। ১৮ শ বা ১৯ শ টাকা কেজি মাছ কিনে বর্তমান বাজারে খাওয়া দুঃসাধ্য। শুধু আমি না আমার মত আরও অনেকেরই একই অবস্থা। মাছের দাম আরো কিছুটা কম হওয়া উচিত।

এদিকে মাছের দামের বিষয়ে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, অভিযান শেষে বিগত বছরগুলোতে এই ঘাটে যে পরিমাণ মাছ এসেছে এবার তার কিছুই আসেনি। মাছের জোগান একেবারে কম। তাছাড়া বাজারে ক্রেতার চাহিদা বেশি। মাছ কম থাকলে ক্রেতা চাহিদা বেশি থাকলে দাম একটু বাড়ে এটা স্বাভাবিক। তবে প্রথম দিন হয়তো অনেক জেলে নদীতে নামেনি। আশা করছি মাছের যোগান বাড়বে। মাছের দোকান বাড়লে দাম কমতে থাকবে প্রত্যাশা করছি।