স্টাফ রির্পোটার:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা দাবি, হয়রানি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পেলেও বিভিন্ন খাতের অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত অর্থ না দিলে ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন কৃষক।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচসহ বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত টাকা না দিলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাওয়া যায় না।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আরেক কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, অফিস খরচের কথা বলে তার কাছ থেকেও ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করেন এবং ভাগ্যক্রমে লটারিতে নির্বাচিত হন। কিন্তু পরে সরকারি খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত টাকা না দিলে ধান বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি জানান, তাকেও অফিস খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা অভিযোগ করেন, তার অজান্তেই কে বা কারা তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি দেখিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতলব উত্তর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, “যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট, আয়কর (আইটি) ও শ্রমিক খরচ বাবদ। তবে অফিস সহকারী যদি এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “ধান সংগ্রহে কৃষক নির্বাচন পুরোপুরি অনলাইন লটারির মাধ্যমে হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, “এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত নই। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরকারি সংগ্রহ অভিযানের আওতায় মোট ৯২৩ মেট্রিক টন ধান এবং ৩৮ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


