সাগর আচার্য্য:
চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাবুরহাট আশিকাটি শ্রীশ্রী সচ্চিদানন্দ শ্যামসুন্দর হরিসভার ১১৩তম বাৎসরিক মহোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত হয়।
সুপ্রাচীন এই মন্দিরটিতে প্রতিবছরেই বাৎসরিক মহোৎসব উদযাপন করা হয় বেশ আড়ম্বরের সাথে। এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ দিনের বেশকিছু পূজোও অনুষ্ঠিত হয় এই হরিসভায়।
মহোৎসবের দুদিনের এই আয়োজনের প্রথমদিন গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছিলো, ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিগীতির অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞের শুভ অধিবাস ও সন্ধ্যারতি, সন্ধ্যারতি অন্তে ০৮ প্রহর ব্যাপি শ্রী শ্রী মহানাম সংকীর্তন আরম্ভ। শেষ দিন আজ শুক্রবারের আয়োজনে ছিলো, শ্রী শ্রী মহানাম সংকীর্তন চলাকালীন মধ্যাহ্নে ভোগরাগ শেষে ভক্তদের মধ্যে মহা প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় মঙ্গলারতি অন্তে শ্রী শ্রী মহানাম সংকীর্তন ও মহোৎসব সমাপ্তি।
মন্দিরের এই অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের আগমনে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্য মন্দির কমিটি ২দিন ব্যাপীই প্রসাদের আয়োজন করেন এবং আজ প্রায় হাজারখানেক ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে হরিনাম সুধা পরিবেশন করেন, প্রভু নিরাঞ্জন সম্প্রদায় (সাতক্ষীরা), বলদেব সম্প্রদায় (চাঁদপুর), পূজাশ্রী সম্প্রদায় (ঝালকাঠী) ও কৃষ্ণ মন্দির সম্প্রদায় (সিলেট)।
আশিকাটি শ্রীশ্রী সচ্চিদানন্দ শ্যামসুন্দর হরিসভা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হারাধন দত্ত জানান,
প্রাচীনতম এই মন্দিরের মহোৎসবে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশ নেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়।
সাধারণ সম্পাদক ব্রজ গোপাল আচার্য্য জানান, প্রতিবছর আমাদের মন্দিরের উৎসবে যোগ দিতে অত্র এলাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই মন্দির দর্শন, পূজাঅর্চনা, ভোগদান, অর্ঘ্যদান করেন ভক্তরা। সকলের সহযোগিতায় আমাদের এই উৎসব আগামিদিনগুলোতে আরো বেশি আড়ম্বরপূর্ণ হবে এমন আশাই ব্যক্ত করি।


