খাজনা রশিদ নিতে দিতে হয় ৩০ হাজার টাকা!
৬শত ১০ টাকার খাজনা রশিদ নিতে ৩০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগ উঠেছে হাইমচর উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী (তহসীলদার) আব্দুল্লাহ আল ওয়াকিলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার অনিয়মের শিকার হয়েছেন মামুন ছৈয়াল ও রাজ্জাক পাটওয়ারী নামের নিরীহ দুই ব্যক্তি। তাদের জমির ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার খাজনার বিপরীতে আদায় করা হয় ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা। পরে প্রতিবাদের মুখে একজনকে টাকা ফেরত দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে খারাপ আচারন, টাকা হলে অনিয়মকে নিয়ম,কাক্সিক্ষত টাকা না পেলে দিনের পর দিন সেবা গ্রহীতাদের হয়রানীর শিকার হতে হয় এই ভূমি অফিসে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকদের ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন এ তহসীলদার আব্দুল্লাহ আল ওয়াকিল।
উত্তর আলগী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের মামুন ছৈয়াল জানান, কমলাপুর মৌজায় ১২৬ শতাংশ জমির খাজনা কাটার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন। ভূমি অফিসের তহসিলদার কেলকুলেটর টিপে জানান- তার জমির খাজনা এসেছে ৭৫ হাজার টাকা। ৭৫ হাজার টাকা না দিলে তার জমি সরকার খাস জমি করে নিয়ে যাবেন। তখন সেবা গ্রহীতা রাজ্জাক তহসীলদারের কাছে কাকুতি মিনতি করেন টাকা কমানোর জন্য। তখন তিনি তাকে বলেন, এটা সরকারি ফি এ টাকা না দেয়ার কোন সুযোগ নাই। ঐদিন খাজনা না কাটতে পেরে তিনি বাড়ি চলে যান। পরের দিন আবার অফিসে আসলে তিনি তাকে টাকা দিতে বলেন। তখন তিনি তাকে এত টাকা দিতে পারবেন না জানালে তহসিলদার তাকে ৪৫ হাজার টাকা দিতে বলেন। তিনি ২৫ হাজার টাকা দিলে তিনি খাজনা রশিদ কেটে দেন। অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্ক মানুষ খাজনা রশিদ নিয়ে বাড়িতে গেলে তার পরিবারের লোকজন দেখেন খাজনা রশিদে মাত্র ৩৮১৬ টাকার খাজনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি এলাকার লোকজনকে জানালে তিনি আমার কাছ থেকে নেয়া ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক পাটওয়ারী বলেন, আমি ভুমি অফিসে গেলে ওনারা আমার কাছ থেকে খাজনা বাবদ ৪৮ হাজার টাকা দাবি করে। আমি স্যারকে বলি আমি একজন গরীব মানুষ। আমি এত টাকা কই থেকে দিবো। তখন আমি অফিস থেকে বের হয়ে আমার বড় ভাই শফিক পাটওয়ারীকে জানালে ওনি তাদের সাথে কথা বললে, অফিসার আমাকে ধমক দিয়ে বলেন ‘আপনার ১টাকাও কমানো যাবেনা।’ আমি সেখান থেকে আইসা পড়তে গেলো তখন কিছু লোক আমাকে বলে ওনাদের এক্সটা ৩/৪ হাজার টাকা দিলে কমানো যাবে। তখন আমি ওনাদের দুই হাজার টাকা দিলে সজিব ৩০ হাজার টাকায় আমার জমির খাজনা কাটে। কিন্তু আমাকে যে খাজনা রশিদ দিয়েছে তাতে লেখা আছে ৪ হাজার ২শ টাকা। এই বিষয়টি চারদিকে চড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ২/৩ জন লোক আমাকি নিয়ে তহসিলদারের সাথে কথা বলিয়ে ৩০ হাজার টাকার খাজনা কর্তন করে ৬ শত ১০টায় জমির খাজনা কাটার রশিদ আমাকে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, উত্তর আলগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে টাকা হলে সব ধরনের কাজ করানো সম্ভব। অবৈধ কাগজও তিনি বৈধ করে দিতে পারেন। নামজারি থেকে শুরু করে খাজনা সকল কিছুতেই তার দুর্নীতি ও অনিয়ম চরম সীমারেখার বাহিরে চলে গেছে। তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষজন নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে একের জমিন অন্যজনের নামে নামজারি করার ফলে পরস্পরের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়ে কোটের বারান্দায় দৌড়াতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। এলাকার লোকজন এ তহসিলদারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের ভুমি অফিসার (তহসিলদার) আব্দুল্লাহ্ আল ওয়াকিল বলেন, এখন এগুলো অনলাইনে কাটা যায়। এই খাজনার টাকা আবার আমি সংশোধন করে দিছি। ওনারা বেশি টাকা দিয়ে খাজনা কাটছে। তাই আমি আবার সংশোধন করে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার কাছে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ করলে আমি তদন্ত সাপেক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


