স্ত্রীর প্রতারনার ফাঁদে পড়ে প্রবাসী স্বামী এখন পথের বিখারী

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:

বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রবাসীরা। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে বলা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধা। একজন প্রবাসী বা রেমিটেন্স যোদ্ধা নিজের সর্বোচ্চ সময়, শ্রম, বিলাসিতা ত্যাগ করে পাড়ি জমায় দেশ ছেড়ে প্রবাসে। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনসহ পরিবারের সকলের ভরন পোষন ও তাদের সুখের জন্য বছরের পর বছর পড়ে থাকেন প্রবাসে। এই প্রবাসী বা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশ ও পরিবারের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা ত্যাগ করলেও সবশেষে রাষ্ট্রের কাছে যেমন মূল্যহীন, তেমনি পরিবারের কাছে শুধুমাত্র পরিচিত অভিভাবক অথবা পরিবারের একজন দায়ীত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে।
রাষ্ট্র যেমন এদের অবদানের কথা মূল্যায়ন করে না। একইভাবে স্ত্রী, সন্তান পরিবারের অন্যদের কাছেও প্রবাসী/ রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কখনো মূল্যায়ন পায় না। শুধু মাত্র ভোগবিলাসের পাত্র হিসেবে পরিচিত হন। আমরা কখনো প্রবাসী বা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্বীকার করতে চাই না। অথচ এই প্রবাসী বা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছাড়া রাষ্ট্র যেমন অচল হয়ে পড়ে, তেমনি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

এমনি এক প্রবাসী/রেমিট্যান্স যোদ্ধার কথা বলছি, সেও পরিবারের জন্য অবদান রেখে পথের বিখারি হয়ে ঘুরছে জনে জনে। তার নাম ফয়সাল হোসেন খান। সে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শাশিয়ালী গ্রামের মো. শাহ-আলম খানের জৈষ্ঠ পুত্র। ফয়সাল পাটওয়ারী ২০১৬ সালে চার লক্ষ টাকা কাবিনে উপজেলার খুরুমখালি গ্রামের বর্তমান কবিরূপসা গ্রামের নাছির ভূঁইয়ার দ্বিতীয় কণ্যার সাথে বিবাহবন্ধন আবদ্ধ হন। পরে ২০১৭ সালে পরিবারের সহায়তায় সৌদি আরব পাড়ি জমায়। বিদেশ যাওয়ার পরে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সব ঠিকঠাক চললেও ভুলে যান মা বাবার কথা। অভিযোগের আলোকে ফয়সাল খান বলেন, বিবাহের পর থেকে আমার স্ত্রী আমার এক কণ্যাকে নিয়ে আমার মামা শ্বশুরের এলাকায় থাকে, সে আমার নিজ বাড়িতে থাকবে না, সেখানে আমার মাবাবার সাথে থাকতে চায় না, যেহেতু আমার লাভ মেরেজ, তাই তার কথা গুরুত্ব দিয়ে রূপসা বাজার অগ্রণী ব্যাংকের নিকটে ভাড়া বাসায় থাকি। পরে আমার স্ত্রী, শাশুড়ি ও আমার মামা শ্বশুর আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুল খালেক সহ আমাকে বলে, আমারে আশেপাশে বাড়ি করার জন্য জায়গা বিক্রি হবে, তুমি টাকা পাঠাও, তোমার নামে জায়গা ক্রয় করবো। একই ভাবে ঢাকা সাভার বাড়ি ও জায়গা ক্রয় করার জন্য আমি গত ৭ বছরে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা পাঠাই। আমার স্ত্রী, শ্বাশুড়ি ও আওয়ামীলীগ নেতা মামা শ্বশুর মিলে আমার স্ত্রীর নামে জায়গা বাড়ি ক্রয় করে। আমি দেশে এসে জায়গা নিয়ে লুকোচুরি দেখে, বিভিন্ন উপায়ে নিশ্চিত হলাম তারা সবাই মিলে আমার স্ত্রীর নামে সব জায়গা ক্রয় করে। পরে এনিয়ে আমার সাথে তারা জামেলা করে, আমি উপায় অন্তর না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বিদেশে চণে যাই, কিন্তু মামা শ্বশুর আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধ্বমকি দিতে থাকে। আমার বাবা-মা আমি বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। তারা আমার সব কিছু লুট করে আমাকে নিস্ব করে পেলেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাদিজা আক্তার মিতু বলেন,‘ওর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ও বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমাদেরকে কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। এমনকি কোনো রকম যোগাযোগই রাখেনি। ২০২১ সালে সে গোপনে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে।’

মামলার ৪নং আসামী ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক পাটওয়ারী বলেন, ‘বর্তমানে আমার ভাগ্নিদের (খাদিজা আক্তার মিতু) সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সাথে জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমি হলাম মামা, আপনি তার বাবার সাথে কথা বলেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- তারা খালাত ভাই বোন। প্রেম করে বিয়ে করেছে। ছেলে বেকার দেখে মেয়ের বাবা ছেলেকে কিছু ভূমি দলিল করে দেয়। আবার ছেলে (মেয়ের জামাই) উল্টা পাল্টা চলার কারনে তারা তাদের জায়গা ফেরত নিয়ে নেয়।’