স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সরকারের খাল সংরক্ষণ ও খনন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা।
জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়নের চৌরাঙ্গী বাজারের মূল সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত খালটির দুই পাড়জুড়ে পাকা ও আধাপাকা মিলিয়ে অন্তত ৩১টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৩ জন ব্যক্তি এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। সরকারি খালের জায়গায় কীভাবে এসব দোকান নির্মাণের সুযোগ হলো, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে প্রভাব খাটিয়ে ধীরে ধীরে খালের জায়গা দখল করে এসব দোকান নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
অবৈধ স্থাপনার মালিকদের অনেকেই দাবি করছেন, তারা সরকারি লিজ নিয়ে দোকান নির্মাণ করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
‘বাবুল ইলেকট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী বাবুল মোল্লা বলেন, “সম্প্রতি কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার জন্য মহসিন পাটওয়ারীর ছেলে পাভেল পাটওয়ারীকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনিই বিষয়টি দেখছেন।” তবে দোকান নির্মাণের বৈধ অনুমোদন বা লিজ সংক্রান্ত কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ফজলে মওলা বিন মহসীন (পাভেল) পাটওয়ারী বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো লিজের কাগজপত্র নেই। তবে ভবিষ্যতে লিজ পাওয়ার আশা করছি।” দোকানপ্রতি ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লিজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। খাল খননের উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে দোকান মালিক বুলু মাস্টার জানান, তাঁর পূর্বের কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছেও ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি টাকা দেইনি। সরকার চাইলে উচ্ছেদ করবে, আমি আর কোনো টাকা দেব না।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “খালের কোনো অংশ লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় নোটিশ দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “খালের অংশ লিজ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনাগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। অনুমোদন পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।


