চাঁদপুরে সওজের উচ্ছেদ চলবে ৩দিন

মানিক দাস/মেহেদী হাসান সম্রাট:

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৩ দিনব্যাপী অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যানজট নিরসন ও মহাসড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের দুই পাশে ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস এলাকা থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের দুই পাশে ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা থাকায় মহাসড়কের প্রশস্ততা কমে গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়ে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন ইন্টারসেকশন উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে মহাসড়কের যানজট কমার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা জানান, মহাসড়কের ৪৮ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ স্থাপনা অপসারণে আগামী দুইদিনও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করে পরিবার চালিয়ে আসছি। হঠাৎ উচ্ছেদ হওয়ায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা করা ঠিক হয়নি, কিন্তু উচ্ছেদের আগে আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করে পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা করা হলে আমরা বেশি উপকৃত হতাম।
হাসেম গাজী এক চা বিক্রেতা জানান, ছোট দোকানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। উচ্ছেদে দোকানটি হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমরা চাই, সরকার আমাদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করুক।