ডুরেন (জার্মানি): জার্মানির বুকে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তোলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই বাংলাদেশি ভাই, ড. শফিকুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম। তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘রাইন-বুর স্পোর্টস ক্লাব’-এর উদ্যোগে সম্প্রতি সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে সাউথ এশিয়ান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫।
এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন এবং প্রবাসী কমিউনিটির মাঝে খেলাধুলার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে Aachen Stars দল Bonn Bletz-কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মোট ১০টি দল অংশ নেয়।
সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্লিনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ রাহাত বিন জামান। তিনি ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জার্মান বুন্ডেস্ট্যাগের স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব থমাস রাসেল এবং ইউরোপিয়ান জার্মান বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব হাবিবুর রহমান হেলাল।
ক্রীড়া ও বিজ্ঞানে দুই ভাইয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়, ড. শফিকুল ইসলাম একজন তরুণ বিজ্ঞানী। বর্তমানে তিনি বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটে সায়েন্টিফিক প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি তিনি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও কাজ করছেন, যার জন্য তিনি ‘ওয়াইল্ড ম্যান্টর’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
অন্যদিকে, ছোট ভাই মো. রফিকুল ইসলাম ক্লাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাদের এই উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ, মো. রফিকুল ইসলামকে ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে ‘Award’ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবন ও অর্জন ড. শফিকুল ইসলাম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বড়ালীর কলিমিয়া মিয়াজী বাড়ির সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী জান্নাতুল রাফিয়াও একজন গবেষক হিসেবে ইউনিভার্সিটি অফ আখেন কর্মরত আছেন। এই দুই ভাইয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রাইন-বুর স্পোর্টস ক্লাবকে কেবল একটি খেলার ক্লাব নয়, বরং জার্মানিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মিলনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
রাইন-বুর স্পোর্টস ক্লাবের জন্য সরকারি স্টেডিয়াম বরাদ্দ রাইন-বুর স্পোর্টস ক্লাবের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জার্মান সরকারের কাছ থেকে একটি স্থায়ী স্টেডিয়াম বরাদ্দ পাওয়া। ২০২২ সাল থেকে জার্মান সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত এই ক্লাবটি জাতীয় পর্যায় থেকে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কোনো ক্লাবের জন্য শুধুমাত্র ক্রিকেটের উদ্দেশ্যে সরকারি স্টেডিয়াম পাওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এই অর্জন দুই ভাইয়ের নিরলস পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতার ফল।


