সাড়ে ছয়শ দিন পর ব্রাজিলে উৎসবের আবহ!

স্টাফ রির্পোটার:

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ছয়শ দিন (৬৫০ দিন) পর অবশেষে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভয়াবহ ইনজুরির কারণে আর পিচে নামা হয়নি এই ফরোয়ার্ডের। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও পায়ের চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মঞ্চে সেলেসাওদের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন তিনি। প্রিয় তারকার এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে বাঁধভাঙা উৎসবের আমেজ।

২০২৩ সালের সেই অভিশপ্ত রাতে এসিএল (ACL) ইনজুরিতে পড়ার পর নেইমারকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়। জাতীয় দল থেকে শুরু করে তার ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারেও নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। তাকে ছাড়া গত সাড়ে ছয়শ দিন ব্রাজিল দলকেও মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ ভুগতে হয়েছে। অবশেষে সকল শঙ্কা কাটিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ তারকা।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’ এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এই ম্যাচকে সামনে রেখে নিউ জার্সির ট্রেইনিং ক্যাম্পে সতীর্থদের সাথে পূর্ণ গতিতে অনুশীলন করতে দেখা গেছে নেইমারকে। কোচ আনচেলত্তি তাকে স্কোয়াডে রাখলেও প্রথম একাদশে শুরু থেকেই খেলাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে দলের উইঙ্গার রাফিনহার ইনজুরির কারণে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে আভাস দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম।

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের ফেরা কেবল একটি খেলোয়াড়ের দলে ফেরাই নয়, বরং এটি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বড় হাতিয়ার। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং এনড্রিকদের মতো তরুণ আক্রমণভাগের সাথে নেইমারের অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে ব্রাজিলের সাম্বা ছন্দ পূর্ণতা পাবে বলে বিশ্বাস ফুটবল বোদ্ধাদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নেইমার তার ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) এনে দিতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।