স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় জামিন আবেদন করতে গিয়ে আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে স্বামীকে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে হাজীগঞ্জ উপজেলার মীম ইসলাম (২৬) দাবি করেন, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে তার সঙ্গে রামগঞ্জের জুয়েল মাহমুদ (৩৩)-এর বিয়ে হয়। বিয়েতে তার পরিবার স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে। বিয়ের কিছুদিন পর জুয়েল ব্যবসার কথা বলে তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ধার নেন, যা আর ফেরত দেননি। পরে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মীম।
অভিযোগে আরও বলা হয়, যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বামীর বাড়িতে এবং ৭ মার্চ বাবার বাড়িতে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় চুলের মুঠি ধরে মারধরসহ বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
মীম ইসলামের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী অন্য নারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে নির্যাতন করা হয় এবং তালাক দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
মামলায় স্বামী জুয়েল মাহমুদ ছাড়াও তার মা মাহমুদা আক্তার (৫০) এবং ভাই তারেক মাহমুদ হিমেলকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে জুয়েল মাহমুদও স্ত্রী মীম ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার দাবি, স্ত্রী তার কথা অমান্য করে ১০ জুলাই ২০২৫ বাবার বাড়িতে চলে যান এবং যাওয়ার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র, গহনা ও টাকা-পয়সা নিয়ে যান। পরে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তালাক প্রদান করেন।
জুয়েল মাহমুদের অভিযোগ, তালাকের পর থেকে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে এবং তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
বুধবার যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় দায়ের করা মামলায় জুয়েল মাহমুদ চাঁদপুর সদর আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


