স্টাফ রির্পেোটার:
কচুয়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কচুয়ার প্রধানতম এ হাসপাতাল নিয়ে কয়েকদিন সরজিমেন পর্যবেক্ষণ করে দৈনিক শপথ। সে চিত্র তুলে ধরা হলো, শনিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসঙ্গতির চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন রোগী ও স্বজনরা। চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।এমনকি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।এতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
শনিবার (৩ জুলাই) সকাল ১২টা থেকে বেলা২টা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকলেও নিয়মিত সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের পরিবর্তে স্থানীয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নাজুক। এছাড়া ভর্তি রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান ও সরবরাহে অনিয়ম রয়েছে।
হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজন আব্বাস মিয়া, ইয়াছিন বেপারী ও আলেয়া বেগম জানান, অনেক সময় জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অচল কিংবা পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হতে হয়। এতে একদিকে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
৬ জুলাই সকাল ১০ টায় সরজমিনে যা দৃষ্টিতে এলো, স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারীর সংকটও চিকিৎসাসেবাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শুধু তাই নয়,ছোটখাটো অপারেশন বা ড্রেসিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যান্ডেজ, গজ, তুলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। এতে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে রোগীর চাপ তার চেয়ে অনেক বেশি। অথচ সেই অনুপাতে জনবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সেবার মানের ওপর।
হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেবা ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সোহেল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভি হয়নি।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, আমি গেল সপ্তাহে পরিদর্শন করেছি। খাবার মান নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তবে ভালো ওটি হয়। কিছু কিছু কাজ ভালো আছে, কিছু কাজ নিয়ে প্রশ্ন আছে। ডাক্তারদের ডিউটিতে পাওয়া গেছে। তবে খাবারের মান নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ঠিকাদারকে এ নিবষয়ে বলা হয়েছে। যেন তা উন্নত করা হয় সে বিষয়ে বলা হয়েছে।


