হাইমচরের চরাঞ্চলে বাড়ছে সাপ আতঙ্ক

স্টাফ রির্পোটার:

হাইমচরের মেঘনার তীরবর্তী চরাঞ্চলে বেড়েছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। এতে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। একের পর এক সাপের কামড়ে এখন পর্যন্ত কৃষক, নারী শিশুসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

এদিকে বর্ষায় জোয়ারের পানি আসতে শুরু করায় আতঙ্কে, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ১নং গাজীপুর, ৪নং নীলকমল, ৫নং হাইমচর ও চরভৈরবী ইউনিয়নের নদী কেন্দ্রিক সাধারণ বাসিন্দারা। এতে করে শঙ্কায় ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া। এসব এলাকার মানুষের বেশির ভাগ জেলে, কৃষির উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ধান চাষ, সবজি চাষ, গবাদি পশু পালন ও মাছ ধরার উপর জীবিকা নির্বাহ করেন লোকজন। কিন্তু বিষধর সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি জমিতে এবং গবাদি পশুর খাদ্যসংগ্রহ করতে পারছেন না কেউ। আবার অনেক পরিবার রাত জেগে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন আতঙ্কিত হয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুম আসার সাথে সাথেই আমরা ভয়ে থাকি। সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে। গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ ও কৃষি জমিতে যেতেও ভয়ে থাকতে হয়। আমাদের ঘরে থাকতেও ভয় চারদিকে পানি বাড়াতে সাবধানতা অবলম্বন করে স্কুলে মাইলের পর মাইল হেটে যেতে হয় ছেলে-মেয়ে সন্তানদের। আমরা সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে চলে যেতে হয় সাপের কামড়ের ভয়ে।

গাজীপুরের বাসিন্দা রৌশন গাজী জানান, বিষাক্ত সাপের আতঙ্কে ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। কারণ চরের রাস্তার দুই পাশে জঙ্গল পানি পেরিয়েই তাদের স্কুলে যেতে হয়। ওরা যতক্ষণ পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরে ততক্ষণ আতঙ্কে সময় কাটাতে হয় আমাদের।

হাইমচরের সাহেবগঞ্জ বাজারের চায়ের দোকানদার আক্তার বলেন, পাঁচ বছর ধরে এখানে দোকানদারী করি। অনেক সাপে কাটা রোগী আমার দোকানের সামনে দিয়ে ট্রলার যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চাঁদপুর হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছি। কিন্তু বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসেন। গত কয়েক মাস ধরে আমাদের এলাকায় দেখা দিয়েছে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সহ ছোট বড় সাপ। এতে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। সাপের ভয়ে সন্ধ্যার পরেই দোকান বন্ধ করার উপক্রম হয়ে যায়।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুন নবী জানান, গ্রাম অঞ্চলে বেশিরভাগ মানুষ সাপে কাটা রোগীদেরকে ওঝাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি থাকে। সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমে দূর্গম চরাঞ্চল থেকে সাপে কাটা রোগীদের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবন রক্ষাকারী এন্টিভেনম রয়েছে। আমরা সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সর্বদা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।