প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবায় সংকট চাঙ্গা কবিরাজি চিকিৎসা

স্টাফ রির্পোটার:

চাঁদপুরের গ্রামাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা ও জনবল সংকটের কারণে বাড়ছে অপচিকিৎসার প্রবণতা। কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেকেই ভরসা করছেন কবিরাজি চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ ও অবৈজ্ঞানিক নানা পদ্ধতির ওপর। এতে একদিকে যেমন রোগ জটিল আকার ধারণ করছে, অন্যদিকে বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সরকারের লক্ষ্য ছিল গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু চাঁদপুরের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট, ওষুধের সীমিত সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কবিরাজ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিরাময়ের দাবি করে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ ও ভেষজ চিকিৎসার নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচেতন মানুষ ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের জায়গা থেকে এসব চিকিৎসার প্রতি আস্থা রাখছেন। এতে অনেক রোগী সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে।
এদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় অধিকাংশ রোগী শেষ পর্যন্ত ছুটে আসছেন চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সদর হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেবার মানও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক একেএম মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা গেলে সদর হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নূরে আলম দীন বলেন, ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অসুস্থ হলে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে জনবল সংকট দূর করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামাঞ্চলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা যত দুর্বল হবে, ততই অপচিকিৎসা ও কুসংস্কারের বিস্তার ঘটবে। তাই কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল, ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করাই এখন চাঁদপুরের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।