স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশাডুলী বনবিভাগ পাটোয়ারী বাড়ি সড়ক এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চুরির ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই বাড়ির গৃহবধূ আসমা আক্তার।
অভিযোগে আসমা আক্তার জানান, তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। এ সময় বাড়ির দেখভালের দায়িত্ব নান্নু পাটোয়ারী নামে এক কেয়ারটেকারকে দেওয়া হয়। প্রায় ছয় দিন পর বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান ঘরের দরজা ভাঙা। পরে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, আলমারির ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কিছু মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে গেছে চোরেরা।
এ ছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসমা আক্তার বলেন, বাড়ির কেয়ারটেকার নান্নু পাটোয়ারীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে আসমার ভাই সাইফ বলেন, ওই বাড়িতে তার বোন, বোনের মেয়ে ও তাদের মা থাকতেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আশপাশের মাদকসেবীরা চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান।
স্থানীয় নেতা ও চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, একজন প্রবাসীর বাড়িতে এমন চুরির ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ এবং এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের আন্তরিক তদন্তের প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটেছে—এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বাড়ি বা এর আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। বাড়িটি কিছুটা নির্জন এলাকায় হওয়ায় সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীদের বিষয়ে তথ্য পেলে থানাকে জানাতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


