শেষ কবে এসেছেন অফিসে, জানেন না নিজেই জেলা ভেটেরিনারি অফিসারের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন?

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুর জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে পদায়নের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে মাত্র কয়েক দিন উপস্থিত হয়েছেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর, বিল-ভাউচার অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন হলেও তাকে নিয়মিত কর্মস্থলে পাওয়া যায় না।

অভিযোগ অনুযায়ী, দাপ্তরিক বিভিন্ন চিঠি, বিল ও ভাউচারে তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে কখনো কখনো কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তার বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। এতে সরকারি দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে অফিসের ড্রাইভারের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়টিও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ড্রাইভারও নিয়মিত অফিসে আসেন না। এমনকি মাসে একবার এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ডা. জাহাঙ্গীর আলম যোগদানের পর প্রথম দিকে দুই-তিন দিন, সর্বোচ্চ চার-পাঁচ দিন অফিসে এসেছেন। এরপর তাকে নিয়মিত কর্মস্থলে দেখা যায়নি।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে।

তবে নিজের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত করতে তার সমস্যা হচ্ছে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লায় থাকতে হচ্ছে।

তার ভাষ্য, আমি অফিসে আসি। যখন আমার কাছে ভালো লাগে, তখনই আসি। তবে সর্বশেষ কবে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলতে পারেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, কিডনি রোগের কারণে যানবাহনে চলাচল করতে তার অসুবিধা হয়। এ কারণে চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা আলাদা একটা দপ্তর। আমি তাদের কাজ দেখি না, তদারকি করি না। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।
উল্লেখ্য, অনুসন্ধানের বিষয়টি তিনি টের পেয়ে ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন।