একহাতে রাসেল ভাইপার || অন্যহাতে সাপের কামড়ে আহত সন্তান!

স্টাফ রিপোর্টার

সন্তানকে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপে দংশনের পর ভয় না পেয়ে সেই সাপকেই বোতলে বন্দি করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন বাবা। এক হাতে আহত সন্তান, অন্য হাতে বোতলবন্দি বিষধর সাপ-চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সোমবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখে চমকে যান উপস্থিত অনেকেই।

হাসপাতালে আসা শিশুটির নাম মরিয়ম। সে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। দুই সন্তানের মধ্যে মরিয়ম ছোট।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বাড়ির সামনে খেলছিল শিশু মরিয়ম। খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ একটি রাসেল ভাইপার তার পায়ে দংশন করে। এতে চিৎকার করে ওঠে শিশুটি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

শিশুর বাবা মনির হোসেন জানান, সাপের দংশনের পর সময় নষ্ট না করে তিনি রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে সাপটিকে খুঁজে বের করেন। পরে সেটিকে একটি বোতলে বন্দি করে প্রথমে মরিয়মকে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মনির হোসেন বলেন, সাপটি সঙ্গে করে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকদের জন্য দংশনকারী সাপটি শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে-এই চিন্তা থেকেই তিনি সাপটি ধরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই মরিয়মের চিকিৎসা শুরু করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। তাকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুরুর পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

তবে চিকিৎসক ডাঃ এনামুল হক জানান, রাসেল ভাইপারের দংশন হওয়ায় শিশুটিকে এখনই ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। তাকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সাপে কাটার পর কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। তবে আগের মতো সাপে কাটার পর ওঝা বা সাপুড়ের কাছে না গিয়ে এখন অনেকেই সরাসরি হাসপাতালে যাচ্ছেন। এতে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ছে।

সন্তানের জীবন বাঁচাতে দংশনকারী বিষধর সাপটি শনাক্ত করে হাসপাতালে নিয়ে আসার ঘটনায় মনির হোসেনের সচেতনতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। তবে চিকিৎসকদের মতে, সাপ ধরতে গিয়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে নিরাপদে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।