স্টাফ রিপোর্টার:
উজানের পানিতে চাঁদপুরের ৬টি উপজেলা প্লাবিত হয়। পানি কমতে শুরু হওয়ার পরেই চোখে পড়ছে গ্রামীণ সড়কের ক্ষতচিহ্ন। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল এলাকায় এর প্রভাব পড়েছে বেশি। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানির প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
চলতি বছরের বন্যায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ হাজিগঞ্জ শাহরাস্তি হাইমচর উপজেলায় উজানের পানির ঢল নামে। নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। ঘরবন্দী হয় প্রায় দেড় লাখ মানুষ। এখন পানি নামছে আর দৃশ্যমান হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক গুলোর ক্ষতচিহ্ন।যেসব সড়কে পানি উঠেছে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় এসব সড়কে এখন পরিবহন চলাচল করে কম।
চাঁদপুর এলজিইডি অফিস সুত্রে জানা যায়, কিছু এলাকায় পানি এখনো রয়ে গেছে। যেসব এলাকায় পানি আছে সে পানি নেমে যাওয়ার পর জানা যাবে পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে সে তথ্য অনুযায়ী জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশত ব্রীজ কালভার্ট ও ২শ ১৬কিলেমিটার গ্রামীণ সড়ক।
সরজমিনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ক্যারোয়া এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ নিজির সাথে। তিনি জানান, বন্যার আগে রাস্তায় সামান্য সমস্যা থাকলেও সেটা আরো তীব্র হয়েছে পানি নামার পর। রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। যার কারণে এখন রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে অসুবিধা হয়। সাথে আছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শাহরাস্তি উপজেলার চিতসী এলাকার বাসিন্দা মোঃ কায়সার মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় রাস্তাগুলো মোটামুটি ভালো ছিল। নিয়মিত ছোট যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু বন্যার পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাগুলো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এ রাস্তা দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করতেও অসুবিধা হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তা খারাপ হওয়ায় গাড়ি কম চলাচল করে। এজন্য এখন আমাদেরকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।
শুধু শাহারাস্তি কিংবা ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এমন চিত্র নয়। এমন জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায়।
বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে চাঁদপুর এলজিইডি অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবির বলেন, যেসব সড়ক মেজর ক্ষতি হয়েছে আমরা তার তালিকা ও আয়তন নির্ধারণে কাজ করছি। সেগুলোর মেজারমেন্ট শেষে প্রাক্কলন তৈরি করে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দ্রুতভাবে কাজ করা হবে।


