মেঘনা নদীতে জাহাজে ৭ জনকে কুপিয়ে হত্যা

সুমন আহমেদ:

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজে ৭ জনকে কুপিয়ে হত্যা করেছ ডাকতরা। দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ঈশানবালা এলাকায় মধ্যরাতের যে কোন সময় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও কোষ্ট অন্য জানান, চট্টগ্রাম থেকে পাবনার বাগাবাড়ির উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে ইউরিয়া সার বোঝাই এমভি আল বাকেরা। প্রথমে জাহাজ থেকে ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আহত ৩ জনকে পাঠানোর পর আরো ২ জনের মৃত্যু।

নিহতরা হলেন, জাহাজের মাস্টার কিবরিয়া, ড্রাইভার সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার সজিবুল ইসলাম, লস্কর আজিজুল মুন্সি ও মাজেদুল ইসলাম। বাকি একজনের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে গুরুতর আহত জাহাজের আরেক সুকানি জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুর নৌ সীমানায় আসলে ডাকাত দল জাহাজ ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।  এতে পৃথক স্টাফরুমে ধারালো অস্ত্রদিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে।

নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ৯৯৯ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে মারা হয়েছে। আহত আবস্থায় ৩ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ সেখানে ২ জনের মৃত্যু হয়। জাহাজ থেকে ৫ জনের লাশ উদ্বার করা হয়৷  প্রত্যেকটি মরদেহ ভিন্ন ভিন্ন রুমে ছিল। ২টি মোবাইল পাওয়া গেছে। তার সূত্রে ধরে রহস্য উদঘাটন করা হবে। এখনো পর্যন্ত নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন বলেন, এই ঘটনার মূল রহস্য বের করতে একটু সময় লাগবে। এটি ডাকাতি নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন হতে পারে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে হতে পারে। এখন আসলে পুরো বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বলা যাবে।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে।