মো. ফাহাদ:
শিয়ালের মাংসে আছে নানান রোগের উপকারিতা, জানতেন না বন্যপ্রাণী নিধন আইনের অপরাধের কথা। তাই স্থানীয়দের সহায়তার একটি শিয়াল শিকারের পর প্রকাশ্যে খোলা বাজারে বিক্রি করতে শিয়ালের মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মো. খলিল মিয়া। পাশে পড়ে আছে নিথর মাথা। এমন ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারে। খলিল মিয়া ওই ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের মৃত মনতাজ উদ্দিনের ছেলে। খবর পেয়ে খলিল মিয়াকে ডেকেছেন বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া। পুরো পরিবার নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে আত্মসমর্পণের পর মুচলেকায় মুুক্তি মিলেছে খলিল মিয়ার।
বাজারের সচেতনদের তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিয়ালের মাংস না পেলেও ঘটনার পেয়েছেন সত্যতা। তাই তিনি দায়িত্বপালনের স্বার্থে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
হতদরিদ্র খলিল মিয়া হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, আমি মানুষের কামলা দিয়ে খাই। মুরুব্বিরা বলছে শিয়ালের মাংস খেলে বাত ব্যাথাসহ নানান রোগের উপকার হয়। তাই আমি প্রতি ভাগ শিয়ালের মাংস ২ শত টাকা করে বিক্রির জন্য বসেছি। জানতাম না শিয়ালসহ নানান বণ্য প্রাণি মারা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। জীবনে আর কোনো দিন এমন কাজ করবো না। কেউ যদি করে তাহলে আমি তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করবো।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্যপ্রাণী জবাই করে মাংস বিক্রি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। খলিল মিয়াকে ডাকার পরে পুরো পরিবার নিয়ে সে আমার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। অপরাধের বিষয়টি পর্যালোচনা করে জীবনে আর কোনদিন এমন কাজ করবে না মর্তে লিখিত অঙ্গিকারের ভিত্তিতে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


